“শুভেন্দু সত্যিই মার খেলে খুশি হতাম”-‘রক্তাক্ত’ বিরোধী নেতাকে কটাক্ষ কল্যাণ ব্যানার্জির

হাওড়ার বেলগাছিয়ায় আবর্জনা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ‘রক্তাক্ত’ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেছেন, পুলিশ তাঁকে হেনস্থা করেছে। যদিও এই অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু এক নম্বরের ড্রামাবাজ লোক।”
সোমবার (২৪ মার্চ) বেলগাছিয়ার ঘটনার পর লোকসভার অধিবেশনে অংশ নেন কল্যাণ। অধিবেশন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি শুভেন্দুকে আক্রমণ করে বলেন, “সবসময় সিআইএসএফ ঘিরে থাকে, ওকে কে মারবে? শুভেন্দু সত্যিই মার খেলে আমি খুশি হতাম।” অন্যদিকে, বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রক্তাক্ত হয়েছেন শুভেন্দু। এই খবর পাওয়া মাত্রই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে যান বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।
শুভেন্দুর অভিযোগ
বেলগাছিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বলে দাবি শুভেন্দুর। তিনি বলেন, “আমাকে রক্তাক্ত করেছে পুলিশ। এই রক্ত আমি গুছিয়ে রাখলাম। আমি কি বাড়ি থেকে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে এসেছি? আপনি মারলেন কেন? সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারেন না, আটকাবেন না কেন?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দিয়েছে এবং হেনস্থা করেছে।
ঘটনার পটভূমি
গত বৃহস্পতিবার বেলগাছিয়ার আবর্জনা ধসের ঘটনায় এলাকায় জলসঙ্কটের পাশাপাশি বহু বাড়িতে ফাটল ধরেছে। স্থানীয়রা ত্রিপল খাটিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতি দেখতে সোমবার বেলগাছিয়ায় যান শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু সেখানে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশ শুভেন্দুকে ঢুকতে বাধা দেয় এবং ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁকে মারধর করা হয়।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুর অভিযোগকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “শুভেন্দু সবসময় নাটক করে। ওর চারপাশে সিআইএসএফ থাকে, কে ওকে মারবে? ওর এই নাটকবাজির কোনও মানে হয় না।” তৃণমূলের দাবি, শুভেন্দু রাজনৈতিক মাইলেজ নেওয়ার জন্য এমন অভিযোগ তুলছেন।
বিজেপির পাল্টা দাবি
বিজেপির তরফে বলা হয়েছে, শুভেন্দু কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বেলগাছিয়ায় যাননি, শুধু ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলেন। দলের নেতা সজল ঘোষ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছে শুভেন্দুর পাশে থাকার চেষ্টা করেন। বিজেপি অভিযোগ করেছে, রাজ্য সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ, আর বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করছে।
এলাকার পরিস্থিতি
বেলগাছিয়ায় আবর্জনা ধসের পর থেকে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। জলের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় জলসঙ্কট দেখা দিয়েছে। বাড়িগুলোতে ফাটল ধরায় অনেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুভেন্দুর এই ঘটনা রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শুভেন্দু ও তৃণমূলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে।