ডেঙ্গির মরশুমে কলকাতা পুরনিগমের বিশেষ উদ্যোগ’, 68টি ওয়ার্ডকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত

ডেঙ্গির মরশুম শুরু হতেই তৎপর হয়ে উঠেছে কলকাতা পুরনিগম। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ একটি বছরব্যাপী নকশা তৈরি করেছে, যাতে ডেঙ্গি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে, 68টি ওয়ার্ডকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে, সেখানে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর এই 68টি ওয়ার্ডে ১০ জনেরও বেশি ডেঙ্গি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছিল, তাই এবার আরও বেশি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন মাসের মধ্যে এসব ওয়ার্ডের সমস্ত ফাঁকা জমি, পুকুর, পারে জমা ময়লা, তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। কলকাতা পুরনিগমের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শহরে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন ১৩,৯২৬ জন। তবে ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০.৫ শতাংশ কমে ১,৩১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
‘বিপজ্জনক’ 68টি ওয়ার্ড:
কলকাতার পুরনিগমের ২, ৩, ৪, ৬, ১৪, ২৬, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৬, ৩৮, ৫৫, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬১, ৬২, ৬৫, ৬৮, ৬৯, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮১, ৮২, ৮৫, ৮৬, ৮৮, ১০৩, ১০৫, ১১০, ১১২, ১১৩, ১১৪, ১১৫, ১১৭, ১১৮, ১২১, ১২২, ১২৪, ১২৬, ১২৭, ১২৯, ১৩১ এবং ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এবং দেশে গত বছর ডেঙ্গির প্রকোপ কম থাকলেও, পতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্ব উষ্ণায়ন এর প্রকৃতিকে বদলে দিতে পারে, এবং ডেঙ্গি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই কলকাতা পুরনিগম আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে, এবং এবারে মার্চ মাসেই সচেতনতা বৈঠক শুরু হচ্ছে।
নোটিশ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ
এপ্রিলে না, বরং মার্চেই ডেঙ্গি সচেতনতার বৈঠক শুরু হতে চলেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ৪৯৬A ধারায় ৯৫১ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, আর এবার বিশেষভাবে সাফাই ও নিকাশি বিভাগের সঙ্গে কর মূল্যায়ন বিভাগও যুক্ত হবে।
মেয়র পরিষদ সদস্য অতীন ঘোষ জানান, “যে সমস্ত ওয়ার্ডে গত বছর ১০ জনের বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিল, সেখানে বাড়তি নজর দেওয়া হবে। ফাঁকা জমি এবং পরিত্যক্ত বাড়ি পরিষ্কার করতে হলে, সেই খরচ সংশ্লিষ্ট বাড়ির করের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজন হলে, নোটিশ দিয়ে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে। পুলিশের সাহায্যও নেওয়া হবে, এবং পুলিশের কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত ২০২৪ সালে ৪৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন, এবং তিনজনের বিরুদ্ধে মিউনিসিপ্যাল কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শহরজুড়ে ৩২টি র্যাপিড অ্যাকশন টিম কাজ করছে।”
কলকাতা পুরনিগমের এই উদ্যোগ ডেঙ্গি প্রতিরোধে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।