“10 বছরে GDP বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ”-জাপানকে পিছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ অর্থনীতির পথে ভারত?

গত এক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আমেরিকা ও চিনের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোকে পিছনে ফেলে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ২.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে ৪.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মাত্র ১০ বছরে ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধির এই হার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বিরল।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর তুলনায় ভারত

গত ১০ বছরে চিনের জিডিপি ৭৬ শতাংশ এবং আমেরিকার ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই তুলনায় ভারতের অগ্রগতি রকেটগতিতে এগিয়েছে। বর্তমানে আমেরিকা, চিন, জার্মানি এবং জাপানের পর ভারত পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভারত শীঘ্রই জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি, গবেষণা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারত তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল

ভারতের এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির পিছনে রয়েছে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি, বাণিজ্য ও শিল্প সংস্কার। গত দশকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির সুযোগ বেশি থাকলেও, এই হার বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

অন্য দেশগুলোর তুলনা

গত ১০ বছরে জার্মানির জিডিপি ৪৪ শতাংশ, ব্রিটেনের ২৮ শতাংশ, ফ্রান্সের ৩৮ শতাংশ, ইতালির ৩৯ শতাংশ, কানাডার ৪৪ শতাংশ, ব্রাজিলের ২৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৫২ শতাংশ এবং রাশিয়ার ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তুলনায় ভারতের ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধি স্পষ্টতই নজরকাড়া।

অতীত থেকে বর্তমান

১৯৯০ সালে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে ১২তম স্থানে ছিল। ২০০০ সালে এটি আরও এক ধাপ নেমে ১৩তম স্থানে চলে যায়। তবে এরপর থেকে ধীরে ধীরে উত্থান শুরু হয়। ২০২০ সালে ভারত নবম স্থানে এবং ২০২৩ সালে পঞ্চম স্থানে পৌঁছে যায়। এই অগ্রগতি ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার প্রমাণ বহন করে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের তরুণ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং সরকারের সংস্কারমুখী নীতি এই বৃদ্ধির ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী কয়েক বছরে ভারত যদি এই গতি বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির মধ্যে নিজের স্থান করে নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ভারতের এই অর্থনৈতিক উত্থান শুধু দেশের জন্যই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন শক্তির উত্থানের ইঙ্গিত দেয়। আগামী দিনে এই প্রবৃদ্ধি কীভাবে বিশ্ব মঞ্চে ভারতের ভূমিকাকে প্রভাবিত করে, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।