হু হু করে কমবে দাম ?-পেঁয়াজের দাম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের, খুশি সাধারণ মানুষ

দেশের পেঁয়াজ চাষিদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। পেঁয়াজ রফতানির উপর আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে রফতানির উপর থাকা ২০ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। ভোক্তা বিষয়ক দফতরের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল।

কৃষকদের আন্দোলনের ফল

বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও ও পিম্পলগাঁও অঞ্চলের কৃষকরা, যাঁরা এশিয়ার বৃহত্তম পেঁয়াজ বাজারের সঙ্গে যুক্ত, দীর্ঘদিন ধরে রফতানি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাজারে সরবরাহ সংকট নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সফল হলেও, কৃষকরা মনে করছিলেন এর মেয়াদ অযথা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যা তাঁদের লোকসান আরও বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে কৃষকদের চাপের মুখে সরকার এই শুল্ক প্রত্যাহার করল।

দামের পতনে কৃষকদের ক্ষতি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও ও পিম্পলগাঁও বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২১ মার্চ লাসালগাঁওয়ে পেঁয়াজের মোডাল মূল্য ছিল ১,৩৩০ টাকা/কুইন্টাল এবং পিম্পলগাঁওয়ে ১,৩২৫ টাকা/কুইন্টাল। তবে কৃষকদের দাবি, এক কুইন্টাল পেঁয়াজ উৎপাদনে গড়ে ২,২০০-২,৫০০ টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে তাঁদের প্রতি কুইন্টালে ৮০০-১,২০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

দেশজুড়ে দাম কমার প্রবণতা

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, গত এক মাসে দেশের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের গড় দাম ৩৯ শতাংশ এবং খুচরো বাজারে ১০ শতা�ংশ কমেছে। এই দামের পতন ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি হলেও কৃষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেকর্ড উৎপাদনের প্রভাব

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের রবি মরশুমে পেঁয়াজ উৎপাদন ২২.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ১৯.২ মিলিয়ন টনের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এই রেকর্ড উৎপাদনের ফলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দাম আরও কমার সম্ভাবনা ত�FABরি করছে।

স্বস্তি না চ্যালেঞ্জ?

রফতানি শুল্ক তুলে নেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, বাজারে দামের স্থিতিশীলতা এখনও অনিশ্চিত। বাড়তি সরবরাহের কারণে আগামী দিনে দামে বড় উত্থান না এলেও রফতানির সুযোগ বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের লোকসান কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বাড়তে পারে, যা কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করবে।

কৃষকদের প্রতিক্রিয়া

লাসালগাঁওয়ের কৃষক নেতা রমেশ পাটিল বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য স্বস্তির। তবে সরকারকে ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (MSP) নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আমরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারি।” এখন সবার নজর রয়েছে, এই পদক্ষেপ কীভাবে পেঁয়াজ চাষিদের ভাগ্য বদলায় এবং বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান কতটা মজবুত করে।