আইপিএল ২০২৫: চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সে তারকা হয়ে উঠলেন ভিগনেশ পুথুর

প্রতি মরশুমে আইপিএল নতুন কিছু তারকার জন্ম দেয়, আর চলতি মরশুমে এক নতুন নামের উত্থান ঘটল – ভিগনেশ পুথুর। রবিবার, চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে প্রথম আইপিএল ম্যাচ খেলতে নামেন কেরলের স্পিনার ভিগনেশ, এবং তাঁর প্রথম ম্যাচেই দুরন্ত পারফরম্যান্সে তিনি হয়ে ওঠেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে যদিও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স প্রথম ম্যাচে পরাজিত হয়, তবে বল হাতে ভিগনেশের পারফরম্যান্স সকলকে মুগ্ধ করেছে। মাত্র একটি ম্যাচেই অনামী এই স্পিনারকে চর্চার শীর্ষে তুলে এনে তাকে সারা দেশের ক্রিকেট মহলে পরিচিত করে দিয়েছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সাজঘরে তরুণ এই ক্রিকেটারকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়, এবং দলের কর্ণধার নীতা আম্বানি নিজে হাতে পুরস্কৃত করেন ভিগনেশকে।
ম্যাচের পর, নীতা আম্বানি দলের সেরা বোলার হিসেবে ভিগনেশের নাম ঘোষণা করেন এবং তাঁর জার্সিতে বিশেষ স্মারক লাগিয়ে দেন। ভিগনেশ এই সুযোগ পাওয়ার জন্য মুম্বই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি জীবনে কখনোই ভাবিনি যে আমি এমন মহান ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলব। আমি খুব খুশি, তবে ম্যাচটা জিততে পারলে আরও খুশি হতাম।”
ভিগনেশ তাঁর কোচ রামকৃষ্ণ এস মাইখেলকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ত্রিশুরে কেসিএল ক্যাম্পে প্রথম দিনেই আমি ভিগনেশকে দেখেছিলাম। তিনি আমাকে মুগ্ধ করেছিলেন, এবং তার বোলিং ক্ষমতা ছিল চ্যাম্পিয়ন বোলারের মতো।” কোচ আরও জানান, ভিগনেশের মধ্যে কোনও ভয় ছিল না, তিনি একেবারে চাপমুক্তভাবে বোলিং করেছেন, যা তার পারফরম্যান্সকে আরো উজ্জ্বল করেছে।
ভিগনেশের বাবা সুনীল কুমার, যিনি একটি অটো চালক, এবং তার মা কেপি বিন্দু, একজন গৃহবধু, ছেলের এই সাফল্যে খুবই খুশি। তিনি বলেন, “যখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে ফোন এসেছিল, সেটা ছিল যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমরা খুব খুশি ভিগনেশের পারফরম্যান্সে।” তিনি আরও বলেন, “ম্যাচের আগে ৫:৩০ মিনিটে ভিগনেশ ফোন করে আমাদের জানায়, তখনও সে জানত না খেলার সুযোগ পাবে কিনা। আমরা প্রার্থনা করতে বলে তাকে সমর্থন জানিয়েছিলাম।”
ভিগনেশের অদম্য আত্মবিশ্বাস ও বোলিং দক্ষতার কারণে এখন তিনি আইপিএল মহলের নতুন তারকা। তাঁর আগামী পরবর্তী ম্যাচগুলির জন্য দর্শকরা অনেক আশাবাদী।