“অ-হিন্দুদের বদলি করা হবে”-তিরুপতি মন্দিরে শুধু হিন্দু কর্মীদেরই রাখার নির্দেশ চন্দ্রবাবু নাইডুর

তামিলনাড়ুর বিখ্যাত তিরুপতি ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে এখন থেকে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই কর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। অ-হিন্দু কর্মীদের অন্যত্র বদলি করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। শুক্রবার নাতি দেবাংশের জন্মদিন উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে তিরুপতি মন্দিরে দর্শনে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।
নাইডু বলেন, “তিরুমালা মন্দিরে শুধু হিন্দু কর্মীদেরই নিয়োগ করা হবে। যদি অন্য সম্প্রদায়ের কোনও কর্মী বর্তমানে কাজ করে থাকেন, তাঁদের সম্মানের সঙ্গে অন্য জায়গায় বদলি করা হবে। খ্রিস্টান বা মুসলিম সম্প্রদায়ের কর্মীরা যদি হিন্দু ধর্মস্থানে কাজ করতে না চান, তাঁদের আবেদনের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।” এছাড়াও তিনি জানান, ভারতের সব রাজ্যের রাজধানীতে ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের পটভূমি
এর আগে নাইডু অভিযোগ করেছিলেন, তিরুপতি মন্দিরের প্রসিদ্ধ লাড্ডুতে গোরু ও শূয়োরের চর্বি মেশানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরির রিপোর্টেও এমন ইঙ্গিত মিলেছিল। এই অভিযোগের জেরে তিরুপতি মন্দির নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর কয়েকদিন পরই তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি), যিনি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, ১৮ জন অ-হিন্দু কর্মীকে বদলির সিদ্ধান্ত নেন। টিটিডি-র চেয়ারম্যান বি আর নাইডু আগেই বলেছিলেন, “মন্দিরে অ-হিন্দু কর্মীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। মন্দিরের ভেতরে ও বাইরে শুধু হিন্দু ভেন্ডরদেরই কাজ করতে দেওয়া হবে।”
নতুন নির্দেশ
চন্দ্রবাবু নাইডুর এই ঘোষণা টিটিডি-র পূর্বের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অন্য সম্প্রদায়ের কর্মীদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে, তবে তাঁদের অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখে এই কাজ করা হবে।” পাশাপাশি, দেশজুড়ে ভেঙ্কটেশ্বর মন্দির স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “এটি হিন্দু ভক্তদের একত্রিত করবে এবং আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে।”
প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করলেও, বিরোধী দলগুলি এর সমালোচনা করেছে। একাংশের মতে, এটি ধর্মীয় বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। তবে, নাইডু ও টিটিডি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মন্দিরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা তিরুপতি মন্দিরকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সকলে।