স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ, রেগে গিয়ে নিজের ছেলেকে খুন করলো IT ইঞ্জিনিয়ার!

চলতি বছরের শুরুতে পুনের একটি অফিস চত্বরে সহকর্মীকে কাটারি দিয়ে কোপানোর ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। এ বারও সেই পুনে। স্ত্রীর উপর সন্দেহের জেরে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুপুত্রের গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক আইটি ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। ধৃতের নাম মাধব টিকেটি।
মাধব টিকেটি তাঁর স্ত্রী স্বরূপা এবং সন্তান হিম্মতের সঙ্গে পুনের চন্দননগর এলাকায় বসবাস করতেন। তিন জনেই মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাধবের মনে সন্দেহ জন্মায় যে স্ত্রী স্বরূপার অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহ থেকে দু’জনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে। গত দু’মাস ধরে মাধব বেকার ছিলেন, যা তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঘটনার দিন
গত বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বিবাদ হয়। দুপুর ১২:৩০ নাগাদ ঝগড়ার মাঝেই মাধব নিজের শিশুপুত্র হিম্মতকে নিয়ে বাইকে করে বেরিয়ে যান। রাত পর্যন্ত তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন স্বরূপা চন্দননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। মাধবের ফোনের লোকেশন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর খোঁজে নামে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ২:৩০ নাগাদ মাধবকে তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা ৫টা নাগাদ তিনি একা কাপড় কিনতে গেছেন, যা পুলিশের সন্দেহ বাড়ায়। ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশ মাধবকে বৈদগাঁওশেরির একটি লজে খুঁজে পায়। সেখানে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর জেরায় মাধব স্বীকার করেন, তিনি নিজের ছেলেকে হত্যা করেছেন।
হত্যার বর্ণনা
পুলিশ জানায়, মাধব একটি দোকান থেকে ছুরি, ডেটল এবং ললিপপ কিনেছিলেন। এরপর তিনি হিম্মতকে নিয়ে খাড়াদি বাইপাসের কাছে ফরেস্ট পার্কের একটি নির্জন জায়গায় যান। সেখানে ছুরি দিয়ে ছেলের গলা কেটে হত্যা করেন এবং দেহটি জঙ্গলে ফেলে দেন। জেরায় মাধব জানান, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানার পর তাঁর সন্দেহ হয়েছিল যে হিম্মত তাঁর সন্তান নয়। এই আক্রোশ থেকেই তিনি এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশের তৎপরতা
ডিসিপি (জোন ৪) হিম্মত জাধব জানান, “অভিযুক্ত দু’মাস ধরে বেকার ছিলেন। স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে তাঁর সন্দেহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এই সন্দেহ থেকেই তিনি ছেলের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নৃশংস কাজ করেছেন।” মাধবের নির্দেশে পুলিশ জঙ্গল থেকে হিম্মতের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। দেহটি পোস্টমর্টেমের জন্য সাসুন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) ও ২৩৮ ধারায় মাধবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শহরে শোকের ছায়া
এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে পুনের বাসিন্দারা। একজন শিক্ষিত আইটি পেশাদারের হাতে এমন নৃশংসতা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য। তদন্ত এখনও চলছে, এবং পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।