মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে নেমে মহিলাকেই গ্রেপ্তার করলো পুলিশ

মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী জয়কুমার গোরের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সাতারার এক বাসিন্দা। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগকারিণী ওই মহিলার বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে এসেছে তোলাবাজির অভিযোগ। জানা গেছে, হেনস্থার মামলা নিষ্পত্তির জন্য তিনি তিন কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। প্রথম কিস্তির এক কোটি টাকা গ্রহণের সময় তিনি হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন।
মন্ত্রী জয়কুমার গোরে জানিয়েছেন, সাতারার ওয়াই এলাকার বাসিন্দা বিরাজ রতন সিং শিন্ডের মাধ্যমে ওই মহিলা তাঁর কাছ থেকে তিন কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। পুলিশের তদন্তে প্রকাশ, মহিলা শিন্ডেকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, টাকা না পেলে তিনি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলবেন এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জানাবেন। সাতারার অ্যান্টি-ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার অরুণ দেবকর বলেন, “শিন্ডে আমাদের জানান, ওই মহিলা মন্ত্রীকে বারবার ব্ল্যাকমেল করছিলেন। পরিকল্পনা করে তাঁকে টাকা নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তারি ও মামলা
সাতারা শহর থানায় ওই মহিলার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তোলাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার তাঁকে এক কোটি টাকা নগদ সহ গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
এই ঘটনার পর এক কোটি টাকার উৎস নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। মহারাষ্ট্রের বিধায়ক রোহিত পাওয়ার প্রশ্ন তুলে বলেন, “জয়কুমার গোরে কেন ওই মহিলাকে এক কোটি টাকা দিতে রাজি হলেন? এর পিছনে কী রহস্য রয়েছে?” এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে দাবি করেন, “এই টাকা মহিলা চেয়েছিলেন, নাকি তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়েছিল? ইডি এবং সিবিআই-এর উচিত এই টাকার উৎস খতিয়ে দেখা।”
বিজেপি বিধায়ক পরিণয় ফুকে পালটা জবাবে বলেন, “এটি বিরোধীদের ষড়যন্ত্র। মন্ত্রীর মানহানি করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য। তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে।”
ঘটনার পটভূমি
ওই মহিলা এর আগে জয়কুমার গোরের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এটি তাঁকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ। এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। তদন্তে আরও কী তথ্য প্রকাশ্যে আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।