পুণেতে মর্মান্তিক ঘটনা, সন্দেহের বশে বাবা নিজের ৩ বছরের ছেলেকে হত্যা

মহারাষ্ট্রের পুণেতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্ত্রীর প্রতি সন্দেহের বশে নিজের তিন বছরের ছেলে হিম্মত মাধব টিকেটিকে হত্যা করেছেন ৩৮ বছরের আইটি ইঞ্জিনিয়ার মাধব সাধুরাও টিকেটি। এই ঘটনায় মাধবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে এবং শনিবার পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার বিবরণ:
মাধব টিকেটি পেশায় একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন, যা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাধবের স্ত্রীর প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ ছিল। এই সন্দেহের কারণে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
গত বৃহস্পতিবার স্ত্রীর সঙ্গে আবারও তর্কবিতর্কের পর মাধব রাগান্বিত হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তিনি তাঁর তিন বছরের ছেলে হিম্মতকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। দীর্ঘক্ষণ মাধব ও হিম্মত ফিরে না আসায় স্ত্রী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশের তদন্ত:
পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখে, মাধব ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরের ফুটেজে মাধবকে একাই দেখা যায়। এই বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তল্লাশি চালায় এবং একটি হোটেল থেকে মাধবকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে মাধব স্বীকার করেন যে, তিনি একটি দোকান থেকে ছুরি ও ব্লেড কিনে ছেলেকে নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় যান। সেখানে তিনি ছেলের গলা কেটে হত্যা করেন এবং মৃতদেহ একটি ঝোপে ফেলে দেন। পুলিশ মাধবের নির্দেশ অনুযায়ী হিম্মতের দেহ উদ্ধার করে।
গ্রেফতার ও মামলা:
মাধবকে গ্রেফতার করে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাধব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং স্ত্রীর প্রতি সন্দেহের কারণে তিনি এই নৃশংস কাজটি করেছেন।
সাম্প্রতিক অনুরূপ ঘটনা:
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই উত্তরপ্রদেশের মেরঠে এক মার্চেন্ট নেভি অফিসারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী এবং তার প্রেমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুণের এই ঘটনাতেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে একটি শিশু প্রাণ হারাল।
শেষ কথা:
পুণের এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাধব টিকেটির মতো একজন শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির এমন নৃশংস কাজে জড়িয়ে পড়া সকলকে হতবাক করেছে। পুলিশ এখন ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং মাধবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় পরিবারটি কীভাবে সামলে উঠবে, তা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দারা।