বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাল আরএসএস, সরকারি মদতের অভিযোগ

বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা নির্যাতন ও হিংসাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। সংগঠনটির তিন দিনের বার্ষিক বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে শনিবার এক প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু নির্যাতনে মদত দেওয়ার তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে। আরএসএসের মতে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর কট্টরপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীগুলো সরকারি মদতে হিংসা ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে।
আরএসএসের প্রস্তাবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ:
আরএসএসের গৃহীত প্রস্তাবে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর চলমান নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সম্প্রতি শাসক জমানার বদল হওয়ার পর থেকেই হিন্দু মঠ, মন্দির, দুর্গাপূজার মণ্ডপ এবং স্কুলে ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। হিন্দু বিগ্রহ ভাঙা হয়েছে এবং নৃশংসভাবে হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও, অপহরণ, লুটপাট, নারী নিগ্রহ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগও উঠেছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। ১৯৫১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে মাত্র ৭.৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা অস্তিত্ব সংকটে রয়েছেন।
আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য:
আরএসএসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়ে সংগঠনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর সরকারি মদতে হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের।”
তিনি আরও জানান, বিজেপি এবং আরএসএসের মধ্যে কোনও অন্তর্দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা নেই। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দেরি হওয়ার পিছনে আরএসএসের সঙ্গে তাদের কোনও বিরোধ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিজেপি নেতাদের উপস্থিতি:
আরএসএসের এই বার্ষিক বৈঠকে বিজেপির বর্তমান সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, আরএসএসের অনুমোদিত ৩১টি সংগঠনের প্রধানরাও এই সভায় যোগ দেন।
লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিতর্ক:
লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অভিযোগ তুলেছে। শনিবার চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ডাকে বিরোধী দলগুলির এক মহাবৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রসঙ্গে অরুণ কুমার বলেন, “এদের অনুমানের কোনও ভিত্তি নেই। লোকসভার আসন ২০০২ সালের আইন দিয়েই বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনও ভিত্তি ছাড়াই রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য এ নিয়ে প্রচার চলছে।”
শেষ কথা:
আরএসএসের এই প্রস্তাব বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর চলমান নির্যাতনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলার মাধ্যমে আরএসএস এই ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই প্রস্তাবের প্রভাব এবং বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে চোখ রাখবে সবাই।