মহিলাদের ঋতুচক্র নিয়ে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মিমি চক্রবর্তী

মহিলাদের ঋতুচক্র নিয়ে আজও সমাজে রয়ে গিয়েছে নানা রকমের ট্যাবু এবং কুসংস্কার। এই সম্পূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে এখনও দ্বিধা বোধ করেন অনেকে। এবার এই বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন অভিনেত্রী ও রাজ্যসভার সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তিনি সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গিয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে মিমি চক্রবর্তী বলেন, “পিরিয়ড হলে ঠাকুরঘরে যেতে পারবে না, এটা তো অন্য হিসেবে এসেছিল একসময়।” তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “মহিলারা ওই সময় সবথেকে বেশি দুর্বল হয়, তাদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তিন দিন দেওয়া হত। সেটাকে ট্যাবু বলে ঘোষণা করা হয়।” মিমির মতে, এই নিয়ম আসলে মহিলাদের বিশ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা কুসংস্কারে পরিণত হয়েছে।

মিমি আরও বলেন, “বাঙালিরা এটা করে না। কিন্তু অনেক জায়গায় আছে রান্নাঘরে পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয় না। এগুলিই সমাজের ছুঁতমার্গ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়ানো উচিত।

মিমির এই মন্তব্য নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “মিমি ঠিক বলেছেন, এই ধরনের কুসংস্কার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।” তবে কিছু ব্যবহারকারী মিমির মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেছেন, “এগুলো আমাদের সংস্কৃতির অংশ, এগুলোকে কুসংস্কার বলা ঠিক নয়।”

মিমি চক্রবর্তীর এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, মিমির মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের এই ধরনের বক্তব্য সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে এই ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মিমি চক্রবর্তী শুধু একজন অভিনেত্রীই নন, তিনি একজন সক্রিয় সমাজকর্মীও। তাঁর এই বক্তব্য সমাজে প্রচলিত নানা রকমের কুসংস্কার এবং ট্যাবু ভাঙতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহিলাদের ঋতুচক্র নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং কুসংস্কার দূর করতে মিমির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ঋতুচক্র নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শারীরিক এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং শিক্ষা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে। মিমি চক্রবর্তীর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।