পারিবারিক অশান্তির জের, শ্যালকের কান কামড়ে ছিঁড়ে ফেললো জামাইবাবু

পারিবারিক অশান্তির জেরে শ্যালকের কানে কামড় দিয়ে তাকে ছাদ থেকে ফেলার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জামাইবাবু সৌরভ সেনের বিরুদ্ধে। সোনারপুরের নোয়াপাড়া আনন্দপল্লিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত শ্যালক রাজা শ্রীবাস্তব সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ঘটনার বিবরণ

সোনারপুর মালিপাড়ার বাসিন্দা সৌরভ সেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মদ্যপান ও স্ত্রী সুস্মিতা সেনের উপর অত্যাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রতিবেশীদের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সৌরভ প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করেন। শুক্রবার গভীর রাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। সৌরভ স্ত্রীর উপর অত্যাচার করছিলেন, এমন সময় পাশের বাড়িতে থাকা সুস্মিতার ভাই রাজা শ্রীবাস্তব দিদির কান্নার আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন। দিদিকে বাঁচাতে গেলে জামাইবাবু সৌরভ রাজার কানে কামড় বসিয়ে দেন এবং তাকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এতে গুরুতর আহত হন রাজা। রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া

শনিবার সকালে রাজা সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সৌরভের অত্যাচার সহ্য করা হলেও এবার তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। রাজার বক্তব্য, “এই ধরনের হিংসার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।” ঘটনার পর থেকে পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারাও সৌরভের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, “সৌরভের মদ্যপান ও হিংস্র আচরণ এলাকার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

পুলিশের পদক্ষেপ

সোনারপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত সৌরভ সেনের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।” তবে এখনও পর্যন্ত সৌরভ পলাতক রয়েছেন।

এলাকায় উত্তেজনা

নোয়াপাড়া আনন্দপল্লির এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে একটি পারিবারিক বিবাদ এতটা হিংস্র রূপ নিতে পারে। রাজার পরিবার ও প্রতিবেশীরা এই ঘটনাকে নিন্দা করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আইনি পথে সমাধানের প্রতিশ্রুতি

রাজা ও তাঁর পরিবার জানিয়েছে, তারা এবার পুরোপুরি আইনি পথে বিষয়টির সমাধান চায়। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “আমরা আর এই অত্যাচার সহ্য করতে পারব না। আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।” পুলিশও আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্তে কোনও ত্রুটি হবে না এবং অভিযুক্তকে শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনা শুধু পারিবারিক অশান্তির উদাহরণই নয়, সমাজে মদ্যপান ও হিংসার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রেখেছে গোটা এলাকা।