সুদানের রাজধানী খারতুমে সেনাবাহিনীর বিজয়, রিপাবলিকান প্যালেস পুনর্দখল

সুদানের সেনাবাহিনী শুক্রবার রাজধানী খারতুমের রিপাবলিকান প্যালেস পুনরায় দখল করেছে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনাকে র্যাপিড সাপোর্স ফোর্স (RSF)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এক কর্তার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি ভবনের ভিতরে সেনাসদস্যরা ভাঙা টাইলস এবং আসবাবের মধ্যে দিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে ‘ভগবান সর্বশক্তিমান’ স্লোগান দিচ্ছেন।
যুদ্ধের পটভূমি
২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল সুদানে প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়। জেনারেল আবদেল ফতেহ বুরহানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে এই সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে ওঠে। রিপাবলিকান প্যালেস, যা সুদানের সরকারি কাজকর্মের প্রধান কেন্দ্র এবং দেশের টাকা ও পোস্টাল স্ট্যাম্প তৈরির স্থান, তা যুদ্ধের একটি প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাসাদটি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সেনাবাহিনীর বিজয়
সুদানের তথ্যমন্ত্রী খালেদ আল-আইসা সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ লিখেছেন, “আজকে পতাকা তোলা হয়েছে, এরপরে জয় না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে।” তাঁর এই বক্তব্যে সেনাবাহিনীর বিজয়ের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ভিডিও এবং ছবিগুলিতে দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্যালেসের ভিতরে সেনাসদস্যরা বিজয় উল্লাস করছেন।
রিপাবলিকান প্যালেসের গুরুত্ব
নীল নদের তীরে অবস্থিত রিপাবলিকান প্যালেস সুদানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রাসাদটি শুধু সরকারি কাজকর্মের জন্যই নয়, দেশের অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও প্রতীক। এর পুনর্দখলকে সেনাবাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের দিকে
সেনাবাহিনীর এই বিজয়কে সুদানের যুদ্ধের সমাপ্তির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, এখনও দেশজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক কাজ বাকি রয়েছে। র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের সঙ্গে সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শেষ কথা
সুদানের সেনাবাহিনীর রিপাবলিকান প্যালেস পুনর্দখল দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এই ঘটনা সুদানের জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বসবাস করছে। এখন সকলের চোখ সুদানের ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুদানের সেনাবাহিনীর এই বিজয় কি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।