বিশেষ: ভারত-পাকিস্তান পারমাণবিক যুদ্ধ হলে মারা যাবে ২০০ কোটি মানুষ, দাবি গবেষকদের

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সীমিত আকারের পারমাণবিক যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি এবং ব্যাপক মৃত্যুর মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রুটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি সমীক্ষায় এমন উদ্বেগজনক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি সম্প্রতি ‘নেচার ফুড’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের পারমাণবিক মজুদের মাত্র ৩ শতাংশেরও কম অস্ত্র ব্যবহার করা হলেও, দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী মারা যেতে পারে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে গবেষকরা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে এই দুই প্রতিবেশী দেশ চারবার যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং সীমান্ত বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কাল্পনিক পরিস্থিতি ও ভয়াবহ পরিণতি

গবেষকরা একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন যে, পাকিস্তান ও ভারত যদি পরস্পরের বিরুদ্ধে ১০০ কিলোটন শক্তিসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাবে। এই মৃত্যু ঘটবে বিস্ফোরণ, আগুন এবং বিকিরণের প্রভাবে। তবে এর প্রভাব কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া বা সট ছড়িয়ে পড়বে, যা সূর্যের আলোকে বাধা দেবে এবং বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা হ্রাস করবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষি ও মৎস্য থেকে প্রাপ্ত ক্যালোরির পরিমাণ ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করবে। এই দুর্ভিক্ষের কারণে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা

শুধু পাকিস্তান-ভারত নয়, গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধের পরিণতিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এমন একটি সংঘাতে বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ প্রাণ হারাতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার যতই সীমিত হোক না কেন, এর পরোক্ষ প্রভাব বিশ্বের খাদ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

রুটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যালান রোবক বলেন, “এই গবেষণা আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—পারমাণবিক যুদ্ধ কখনোই ঘটতে দেওয়া উচিত নয়। অস্ত্র যদি থাকে, তবে তা ব্যবহারের ঝুঁকি থাকবেই। এর ফলে সরাসরি ক্ষতির চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে দুর্ভিক্ষে।” তিনি পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণের পক্ষে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, পারমাণবিক যুদ্ধের ফলে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে ফসল উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেসব দেশ খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যেমন আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, সেখানে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করবে। এমনকি উন্নত দেশগুলোও দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট থেকে রেহাই পাবে না।

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা যদি পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার পরিণতি কেবল এই দুই দেশ নয়, পুরো বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে।