বাংলাদেশ থেকে উসকানি, নাগপুর হিংসায় সাইবার সেলের তদন্তে চাঞ্চল্য

সোমবার নাগপুরে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এই হিংসার পিছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত মিলছে, যখন স্থানীয় পুলিশ আবিষ্কার করে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু উসকানিমূলক পোস্টের উৎস বাংলাদেশ। নাগপুর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এক ফেসবুক পোস্ট শনাক্ত করে, যা একটি বাংলাদেশি অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছিল। এই পোস্টের মাধ্যমে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্ট:
সাইবার সেলের তদন্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক ব্যক্তি এই পোস্ট করেছিলেন, যেখানে নাগপুরের হিংসাকে “ছোট ঘটনা” বলা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে আরও বড় দাঙ্গার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পোস্টটি ব্লক করে।
সাইবার অপরাধ দমন বিভাগের কঠোর পদক্ষেপ:
নাগপুর হিংসার পরিপ্রেক্ষিতে মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ১৪০টিরও বেশি আপত্তিকর পোস্ট এবং ভিডিও চিহ্নিত করেছে, যা সাম্প্রদায়িক অশান্তি উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আপলোড করা হয়েছিল। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও ইউটিউবে পোস্ট করা এই কনটেন্টের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯(৩)(বি) ধারায় নোটিশ জারি করা হয়েছে, যাতে অবিলম্বে তা সরিয়ে ফেলা হয়।
এছাড়া, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNS) অনুযায়ী, আপত্তিকর পোস্টগুলির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগ জানিয়েছে, এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে জনগণকে উত্তেজিত করা, সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও খারাপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অপ্রীতিকর ঘটনার কঠোর মোকাবিলা:
এখন পর্যন্ত মাইনরিটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা ফাহিম খান, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আট কর্মী-সহ মোট ৬৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যোগেশ কদম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার রাতে উত্তেজিত জনতা নাগপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। গাড়ি ভাঙচুর, পেট্রোল বোমা ছোড়া, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে।
এই অশান্তির সূত্রপাত হয় ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক বিক্ষোভ ঘিরে। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সমাধির পবিত্র শিলালিপি সহ একটি ‘চাদর’ পোড়ানো হয়েছে। এর জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্ত:
মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগ ও নাগপুর সিটি সাইবার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোখা যায়। নাগরিকদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক বা উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাগপুরে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।