‘‘গাজার বাসিন্দারা, এটি আপনাদের জন্য শেষ সতর্ক বার্তা”- বড় অভিযানের ইঙ্গিত দিলো ইসরায়েল

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই সতর্কতা প্রকাশ করেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই সতর্কতার পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজায় নতুন করে স্থল অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, যা গত জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সবচেয়ে তীব্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে।

ইসরায়েল কাটজ তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, “গাজার বাসিন্দারা, এটি আপনাদের জন্য শেষ সতর্ক বার্তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া পরামর্শ মেনে নিন। জিম্মিদের ফিরিয়ে দিন এবং হামাসকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করুন। এই পরামর্শ মানলে আপনাদের জন্য অন্যান্য সব বিকল্পের দ্বার উন্মুক্ত হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরামর্শ অনুসরণ করে ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করুন এবং হামাসকে ক্ষমতাচ্যুত করুন।”

স্থল অভিযানের ঘোষণা

একই দিনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরুর কথা ঘোষণা করেছে। সোমবার ও মঙ্গলবারের ভয়াবহ হামলার পর এই অভিযান শুরু হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের সৈন্যরা মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় স্থল অভিযান আবার শুরু করেছে। উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে আংশিক বাফার জোন এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সৈন্যরা গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিম করিডোর পর্যন্ত তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

গাজায় প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ৯৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৪৮,৫৭৭। বুধবার দুপুরের দিকে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৯,৫৪৭-এ পৌঁছেছে। এই হামলার ফলে গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও পটভূমি

ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ এবং সতর্কতা এমন সময়ে এসেছে, যখন গত জানুয়ারিতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শের উল্লেখ থাকায় এটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের পরামর্শে গাজার বাসিন্দাদের জিম্মি সংকট সমাধান এবং হামাসের শাসনের অবসানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গাজার বাসিন্দারা ইতিমধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, খাদ্য ও পানির অভাব এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের মধ্যে বসবাস করছেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ও স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একাংশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র: এএফপি।