রোজা ভেঙে মহিলার প্রাণ বাঁচালেন নাসিম মালিতা, ধর্মকে দূরে সরিয়ে মানবতা দেখালেন যুবক

একদিকে রাজ্য রাজনীতিতে ধর্মীয় ইস্যুতে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে নদিয়ার পলাশীর যুবক নাসিম মালিতা ধর্মকে দূরে সরিয়ে মানবতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এক মহিলার প্রাণ বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্তদান করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে কল্যাণী জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে।
জানা গিয়েছে, কিডনির সহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন মাজদিয়ার বাসিন্দা সঙ্গীতা ঘোষ। মাঝেমধ্যেই তাকে রক্ত দিতে হয়। গত রবিবারও তাঁর রক্তের প্রয়োজন হলে, সঙ্গীতা ঘোষের ছেলে সঞ্জু ঘোষ রক্তের জন্য নানা জায়গায় খোঁজ করতে থাকেন। তখনই ফোন যায় নাসিম মালিতার কাছে। তিনি কল্যাণী হাসপাতালে পৌঁছে রক্তদান করেন, যাতে মহিলার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।
নাসিম মালিতা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত রক্তদান করে থাকেন। রবিবার দুপুরে যখন তাঁর কাছে রক্ত দেওয়ার জন্য ফোন আসে, তখন তিনি রোজা রাখছিলেন। তবে ধর্মীয় বিধি ভেঙে রক্তদান করতে পিছপা হননি তিনি। রোজা ভেঙে রক্তদান করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি খাওয়া-দাওয়া করেন।
পলাশীর ২৭ বছরের যুবক নাসিম বলেন, “আমার বাড়ি পলাশীতে, তবে কর্মসূত্রে কল্যাণীতে থাকি। দুপুরের নমাজের পর শুয়েছিলাম, তখনই ফোন আসে রক্ত দিতে হবে। আমি আগেও অনেকবার রক্তদান করেছি। সবাইকে বলব, রক্তদান করার জন্য। এতে ভয়ের কিছু নেই, কোনও ক্ষতি হবে না।”
সঙ্গীতা ঘোষের ছেলে সঞ্জু ঘোষ নাসিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “নাসিমদাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি নিজেও আগে রক্তদান করেছি, আর উনি রোজা থাকা সত্ত্বেও মায়ের জন্য রক্ত দিলেন, তাই খুবই ভালো লাগছে। আমি মনে করি, জীবন বাঁচানোটা সবচেয়ে বড় ধর্ম। এখানে কে, কোন ধর্মের বা জাতির, তাতে কিছু যায় আসে না।”
নাসিম মালিতার এই মানবিক কাজ আমাদের সামনে মানবতার এক মহান উদাহরণ রেখেছে, যা ধর্মীয় ভেদাভেদকে অতিক্রম করে শুধু জীবনের মূল্যকেই প্রাধান্য দেয়।