পিৎজা, রোস্ট চিকেন সঙ্গে ছিল….! স্পেস স্টেশনে টানা ৯মাস আর কি কি খেয়েছিলেন সুনীতা, বুচ?

মঙ্গলবার (মার্কিন সময়) বুচ উইলমোর এবং সুনীতা উইলিয়ামস স্পেসএক্স ক্যাপসুলে করে ফ্লোরিডার উপকূলে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) তাঁদের মাত্র এক সপ্তাহ থাকার কথা ছিল। কিন্তু বোয়িংয়ের স্টারলাইনারে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ফলে নয় মাস মহাকাশে কাটিয়ে অবশেষে তাঁরা পৃথিবীতে ফিরলেন।
পৃথিবী থেকে ৪০৯ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত আইএসএস গত ২৫ বছর ধরে বিশ্বের মহাকাশচারীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথ পরিচালনায় এই ফুটবল মাঠের আকারের গবেষণাগারটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
উইলমোর (৬২) এবং উইলিয়ামস (৫৯) দুজনেই নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ টেস্ট পাইলট, যাঁরা পরে নাসায় যোগ দেন। টেনেসির বাসিন্দা উইলমোর স্কুল-কলেজে ফুটবল খেলেছেন, আর ম্যাসাচুসেটসের নিডহ্যামের সুনীতা ছিলেন প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারু। মহাকাশে থাকাকালীন উইলমোর তাঁর ছোট মেয়ের বড় হওয়ার সময়টুকু মিস করেছেন। অন্যদিকে, সুনীতা ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে স্বামী, মা এবং আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। তিনি তিন মাস পর আইএসএস-এর কমান্ডারের দায়িত্ব নেন এবং এই মাসের শুরু পর্যন্ত তিনি সেই পদে ছিলেন।
মহাকাশে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। পেশি ও হাড়ের ক্ষয়, শরীরের তরলের পরিবর্তন, কিডনিতে পাথর, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং মাধ্যাকর্ষণে ফিরে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে। নাসা এই প্রভাবগুলো ভালোভাবে নথিভুক্ত ও পরিচালনা করে।
তাঁরা কী খেয়েছেন এবং নয় মাস কীভাবে বেঁচেছেন?
গত বছর নভেম্বরে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইএসএস-এ উইলমোর ও উইলিয়ামস পিৎজা, রোস্টেড চিকেন এবং চিংড়ির ককটেল খেয়েছেন। তবে তাজা ফল-সবজি সীমিত ছিল। প্রথম তিন মাস তাজা পণ্য থাকলেও পরে তা শেষ হয়ে যায়। তারপর প্যাকেটজাত বা ফ্রিজে শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। নাসার চিকিৎসকরা তাঁদের ক্যালোরি গ্রহণের ওপর নজর রেখেছিলেন। প্রাতঃরাশে সিরিয়াল, গুঁড়ো দুধ, টুনা ইত্যাদি ছিল তাঁদের খাদ্যতালিকায়।
মাংস ও ডিম পৃথিবীতে রান্না করে পাঠানো হত, যা শুধু গরম করতে হত। স্যুপ, স্টু বা ক্যাসেরোলের মতো ডিহাইড্রেটেড খাবার আইএসএস-এর ৫৩০ গ্যালন বিশুদ্ধ জল দিয়ে পুনরায় হাইড্রেট করা হত। এই জল মহাকাশচারীদের প্রস্রাব ও ঘাম থেকে পুনর্ব্যবহার করা হয়। তবে খাবারের অভাবে ওজন কমার কোনও সমস্যা হয়নি। প্রতিদিন প্রতি মহাকাশচারীর জন্য ৩.৮ পাউন্ড খাবার মজুদ ছিল, এমনকী দীর্ঘ মিশনের জন্য অতিরিক্ত সরবরাহও রাখা হয়েছিল।
নয় মাসের এই যাত্রা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা নিলেও, তাঁরা সফলভাবে ফিরে এসেছেন। সুনীতার ভারতীয় শিকড় এই প্রত্যাবর্তনকে আরও গৌরবময় করে তুলেছে।