টানা চলল পুজো, ফাটল বাজি! সুনিতার ‘ঘরে ফেরায়’ আনন্দে আত্মহারা পৈতৃক ভিটে

ন’মাসের দীর্ঘ উদ্বেগের পর, ১৭ ঘণ্টার টানা অভিযানের শেষে অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এলেন সুনীতা। বুধবার ভোররাতে ফ্লরিডার উপকূলে অবতরণ করে মাস্কের পাঠানো ড্রাগনযান, আর সেই যানে সওয়ার হয়ে ‘আকাশ-কন্যা’ নামলেন ধরিত্রীতে। সঙ্গে ফিরলেন বুচ উইলমোরও।

তবে, সুনীতাদের পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই বাড়ি ফেরা হচ্ছে না। জানা গেছে, আগামী ৪৫ দিন তাদের রাখা হবে রিহ্যাব সেন্টারে। দীর্ঘসময় মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় থাকার ফলে তাদের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটেছে এবং শারীরিক অবস্থাও আগের মতো নেই। তাই চিকিৎসার পরই সুনীতাকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে, এমনটাই জানিয়েছে NASA।

এদিকে, সুনীতার পৃথিবীতে ফেরার খবর নিয়ে চারপাশে উৎসবের আবহ। আমেরিকা আনন্দিত, আর ভারতও উৎফুল্ল। কারণ, সে যে এই দেশের মেয়ে। তাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচারী সুনীতার ফিরে আসা নিয়ে তার পৈতৃক ভিটে, গুজরাটের ঝুলসান গ্রামও আনন্দে ভরে উঠেছে।

যখন সুনীতা ফ্লরিডার উপকূলে অবতরণ করেন, তার এক ঘণ্টা পরেই গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। সুনীতার জন্ম যদিও আমেরিকায়, তবে তার বাবা দীপক পান্ডে এই গ্রামেই বড় হয়েছেন, তাই সুনীতা যেন এই গ্রামেরই মেয়ে। গ্রামের মেয়ে আকাশে পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন— এতে তাদের আনন্দের শেষ নেই।

এমনকি, সুনীতা যখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ ঘাঁটি (ISS) থেকে পৃথিবীর পথে রওনা দেন, তখন থেকেই গ্রামটির প্রধান মন্দিরে শুরু হয়েছিল প্রার্থনা। সুনীতার নিরাপদে ফিরে আসার জন্য মন্দিরে চলেছিল পুজো ও যজ্ঞ। আজ যখন সুনীতা পৃথিবীতে ফিরে এলেন, সেই খুশির রেশ পৌঁছে গেল গুজরাটের এই ছোট্ট গ্রামেও। বাজি ফাটানো, নাচ-গান—সব কিছু মিলিয়ে সাধারণ মানুষের আনন্দ উদযাপন চলছে।