হাওলায় টাকা পাঠানো থেকে সোনা পাচার, কতদূর ছড়ানো তার জাল? ডিআরআই-এর তদন্তে উন্মোচন নতুন তথ্য

তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে, এবং তিনি এই কাজ স্বেচ্ছায় করেননি। সোনা পাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর এই দাবি করেছিলেন কন্নড় অভিনেত্রী রানিয়া রাও। তবে তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই উন্মোচিত হয়েছে এক ভিন্ন চিত্র। রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরা প্রায় নিশ্চিত যে, রানিয়া দীর্ঘদিন ধরে সোনা পাচারের চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ডিআরআই-এর সূত্র অনুযায়ী, রানিয়া এবং তরুণ রাজ কোন্দ্রু দুবাইতে সোনার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তাঁরা ভিরা ডায়মন্ডস ট্রেডিং নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এই তরুণ তেলেগু অভিনেতা রানিয়ার কলেজ জীবনের পরিচিত। ২০২৩ সালে তিনি রানিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনার হন এবং ভিরা ডায়মন্ডসে তাঁদের সমান অংশীদারিত্ব ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, রানিয়া এবং তরুণ রাজ কোন্দ্রু দুবাইতে সোনা আমদানি করতেন এবং পরে তা ভারতে পাচার করতেন। ভিরা ডায়মন্ডস ট্রেডিং এলএলসি মূলত দুবাইয়ে সোনা আমদানির সুবিধা নিত, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সোনার উপর কোনো আমদানি শুল্ক নেই। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে তাঁরা জেনেভা ও ব্যাঙ্কক থেকে সোনা আমদানি শুরু করেন। রানিয়া দুবাইয়ের রেসিডেন্স কার্ডও পেয়েছিলেন, যা তাকে ভিসা ছাড়াই সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলাফেরার সুবিধা দিয়েছে। তরুণ রাজ কোন্দ্রুর মার্কিন পাসপোর্ট রয়েছে, এবং দুবাই কাস্টমসে সোনার চালান ক্লিয়ার করার দায়িত্বে ছিলেন রানিয়া।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, রানিয়া দুবাইতে সোনা বিক্রির কথা বললেও, বাস্তবে তিনি সোনা ভারতে পাচার করতেন। তিনি দুবাইয়ের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিদেশি মুদ্রায় পেমেন্ট করতেন এবং ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দুবাইতে পাঠাতেন। রানিয়ার বাবা রামচন্দ্র রাও কর্ণাটক পুলিশের ডিপার্টমেন্টাল জেনারেল (DGP) পদে কর্মরত ছিলেন। সোনা পাচার মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় কর্ণাটক সরকার তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। ডিআরআই রানিয়ার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করছে।

এই মামলায় রানিয়ার আন্তর্জাতিক লেনদেন ও শুল্ক ঘোষণা বিশ্লেষণ করে রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তর সোনা পাচারের চক্রের গভীরতা বুঝতে চেষ্টা করছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, রানিয়া ব্যাঙ্কক ও জেনেভায় বেশ কিছু বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন এবং দোহা ও জেনেভার পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সোনা কিনতেন।

এই ঘটনায় রানিয়ার পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে এই মামলা সোনা পাচারের জটিল নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এর প্রসার সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচন করেছে।