OMG! শ্যালিকাকে সিঁদুর পরাতে চেয়েছিলেন জামাইবাবু, রাজি না হওয়ায় ঘটে গেলো রক্তারক্তি কান্ড

স্ত্রীর মৃত্যুর পর শ্যালিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চেয়েছিলেন জামাইবাবু বিমল বিশ্বাস। শ্যালিকার স্বামীও কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু শ্যালিকা কোনওভাবেই এই সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে বিমলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিমল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে হাঁসখালি থানার পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

আক্রান্ত মহিলার বড় জা জানিয়েছেন, বিমল বিশ্বাসের বাড়ি কৃষ্ণনগরে এবং তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি বারবার শ্যালিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। এমনকী, বিমল দাবি করেছিলেন, শ্যালিকা তাঁকে বিয়ে করলে তিনি নিজের সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেবেন। কিন্তু এতেও রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে বিমল শ্যালিকার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের বক্তব্য

এলাকার বাসিন্দারা জানান, আক্রান্ত মহিলার দুই ছেলে রয়েছে এবং বিমলেরও সন্তান আছে। এই কারণে মহিলা এই সম্পর্কে যেতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জামাইবাবুকে স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ এই হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশের তদন্ত

হাঁসখালি থানার পুলিশ ঘটনার পরপরই বিমল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার পিছনে শুধু প্রণয়ঘটিত কারণ রয়েছে, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত মহিলার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে তদন্ত চলছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

মহিলার বড় জা বলেন, “বিমল অনেক দিন ধরেই আমার বোনকে বিরক্ত করছিল। আমরা ভাবতেও পারিনি যে সে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে।” হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মহিলার অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

সমাজে প্রভাব

এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে এমন হিংসাত্মক ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে। আপাতত বিমল বিশ্বাস পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।