‘স্টেজে ওঠার আগে খাবারও খাই না’- নিজের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে যা জানালেন সঙ্গীত শিল্পী সোমলতা

বাংলার সঙ্গে সঙ্গীতের সম্পর্ক নিবিড় এবং চিরকালীন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক রক, বাংলা গান সবসময়ই বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করে। এই বাংলার মাটিতেই জন্ম নিয়েছিলেন মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীরা। আজও বাংলা সঙ্গীত জগত নতুন নতুন প্রতিভায় সমৃদ্ধ হচ্ছে, যাদের মধ্যে অন্যতম সোমলতা আচার্য চৌধুরি। তাঁর কণ্ঠের জাদু দর্শক-শ্রোতাদের মন কেড়ে নেয়, আর রকস্টার হিসেবে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক আবেগের নাম।

শিক্ষা ও সঙ্গীতের সমন্বয়
সোমলতা আচার্য চৌধুরি শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পীই নন, তিনি একজন শিক্ষকও। আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক এবং রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা সোমলতা বর্তমানে আশুতোষ কলেজেই শিক্ষকতা করছেন। তবে সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে। তাঁর গানের গলা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। বিশেষ করে রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘মায়াবন বিহারিনী’ তাঁর কণ্ঠে এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।

সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা
সোমলতা আচার্য চৌধুরি ইটিভি ভারত লাইফস্টাইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আইসক্রিম খেতে ভালোবাসি, তবে খুব বেশি খাই না। সারাবছরই মেইনটেন করি না হয়তো, বেশিরভাগ সময় মেইনটেন করার চেষ্টা করি। যেহেতু আইসক্রিম খেতে আমি ভালোবাসি, তাই একেবারেই বন্ধ রাখতে পারি না। সিজনের সময়, অর্থাৎ আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত, যখন প্রোগ্রামের সময় থাকে, তখন আইসক্রিম এড়িয়ে চলি। অথবা যখন জানি আগামী ১৫ দিনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডিং বা অনুষ্ঠান নেই, তখন একটু আইসক্রিম খাই, তবে অবশ্যই ভেবেচিন্তে।”

গলার যত্ন এবং পেশাদারিত্ব
সোমলতা আরও জানান, “গলাটাই আমার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কাজের জন্য, তাই এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিজনের সময়, বিশেষ করে পুজোর সময়, বাইরে গিয়ে অনুষ্ঠান করতে হয়। সেখানে আবহাওয়া আলাদা, ওয়েদার চেঞ্জের কারণে গলার সমস্যা হতে পারে। যখনই মনে হয় সমস্যা হতে পারে, তখনই প্রিকশন নিতে শুরু করি। গার্গেল করা, স্টিম নেওয়া, আর কিছু হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাই, যা আমাকে সাহায্য করে। তাই এখনও পর্যন্ত ঠিকঠাক চলতে পেরেছি, ভবিষ্যতেও পারব।”

তিনি আরও যোগ করেন, “অনুষ্ঠান শুরুর আগে কোনো ঠান্ডা জিনিস খাওয়ার রিস্ক নিই না। এমনকি স্টেজে ওঠার আগে কিছু খাইও না। আমার এই সময় খাওয়ার গ্যাপ থাকে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা।”

তরুণ প্রজন্মের কাছে সোমলতা
সোমলতা আচার্য চৌধুরি শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পীই নন, তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা। তাঁর গান শুধু কানেই নয়, হৃদয়েও স্পর্শ করে। বাংলা সঙ্গীত জগতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর কণ্ঠের মায়াবী সুর এবং পেশাদারিত্ব তাঁকে বাংলা সঙ্গীত জগতে এক অনন্য স্থান দিয়েছে।

উপসংহার
সোমলতা আচার্য চৌধুরি শুধু একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, তিনি একজন শিক্ষক, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা এবং পেশাদারিত্ব বাংলা সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করছে। তাঁর কণ্ঠের জাদু এবং গানের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে বাংলার সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে। আগামী দিনেও বাংলা সঙ্গীত জগতে তাঁর অবদান অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।