বেলুচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক, পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক করেছে এবং দাবি করেছে, তাদের হাতে ২০০-র বেশি পাকিস্তানি নাগরিক বন্দী রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, কারণ ২০২৫ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতীয় দল পাকিস্তান সফরে যায়নি। তবে, একটি আশ্চর্যজনক তথ্য হলো, এই বেলুচিস্তানেই ভারতীয় ক্রিকেট দল অতীতে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু তারপর থেকে কী ঘটেছে?

বেলুচিস্তানে ক্রিকেটের অবস্থা
বেলুচিস্তানে দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে—কোয়েটার আয়ুব ন্যাশনাল স্টেডিয়াম এবং বুগতি স্টেডিয়াম। এছাড়া গ্বদরে একটি মনোরম স্টেডিয়াম রয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছিল। তবে সেখানে এখনও কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। বেলুচিস্তানে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ৩০ অক্টোবর, যখন পাকিস্তান জিম্বাবুয়েকে বুগতি স্টেডিয়ামে ৩ উইকেটে হারিয়েছিল। এরপর থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে।

ভারতের ইতিহাস বেলুচিস্তানে
ভারতীয় ক্রিকেট দল বেলুচিস্তানের আয়ুব ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। প্রথমটি ছিল ১৯৭৮ সালের ১ অক্টোবর। বিষণ সিং বেদীর নেতৃত্বে ভারত পাকিস্তানকে মাত্র ৪ রানে হারিয়েছিল। ম্যাচের সেরা ছিলেন মহিন্দর অমরনাথ, যিনি ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচটি হয় ১৯৮৪ সালের ১২ অক্টোবর। সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বে ভারত এবার ৪৬ রানে হেরে যায়। এরপর থেকে ভারত আর কখনও বেলুচিস্তানে খেলেনি।

কেন বেলুচিস্তান ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত?
বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বালুচ জনগণের স্বাধীনতার দাবি ও পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই প্রদেশে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে। বালুচ লিবারেশন আর্মির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। এই অস্থিরতার কারণেই বেলুচিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানচিত্র থেকে প্রায় বিলুপ্ত।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫: ভারতের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে আয়োজিত হলেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তান সফরে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইতে খেলে এবং ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার কিছুদিন পরেই বেলুচিস্তানে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটে। বিএলএ দাবি করেছে, তারা ২০০-র বেশি যাত্রীকে বন্দী করেছে, যা এই অঞ্চলের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিসিসিআইয়ের পাকিস্তান সফর এড়ানোর সিদ্ধান্ত কতটা যথাযথ ছিল।

ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের স্বস্তি
যে বেলুচিস্তানে একসময় ভারতীয় দল জয়ের স্বাদ পেয়েছিল, সেখানে এখন শুধু গোলাগুলি আর অশান্তির শব্দ। পাকিস্তান সরকারের অবহেলা এবং বালুচ বিদ্রোহের কারণে এই অঞ্চল ক্রিকেটের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন শুধু বলছেন, “ভাগ্যিস, ভারত পাকিস্তান যায়নি!” চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের শিরোপা জয় এবং বেলুচিস্তানের এই ঘটনা একসঙ্গে বিসিসিআইয়ের দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছে।

বেলুচিস্তানের এই অস্থিরতা শুধু ক্রিকেট নয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটকেও তুলে ধরছে। যে মাটিতে একদিন খেলার শব্দ গুঞ্জরিত হতো, সেখানে এখন শুধু সংঘাতের ধ্বনি।