বিশেষ: দোলের শুভ দিনে আজ চন্দ্রগ্রহণ, জেনেনিন এই সময়ে কী করবেন-কী করবেন না?

আজ ফাল্গুন পূর্ণিমা এবং হোলি উৎসবের শুভদিনে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে চলেছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে এবং শেষ হবে বিকেল ৩টা ২৯ মিনিটে। তবে এই চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে না, কারণ এটি দিনের বেলায় ঘটছে। ফলে সূতক কাল বৈধ হবে না এবং হোলি উৎসব পালনে কোনও বাধা থাকবে না। এদিন সূর্য ও চন্দ্র উভয়ই রাশি পরিবর্তন করছে, যা এই গ্রহণকে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দিক থেকে বিশেষ করে তুলেছে।
‘ব্লাড মুন’ এর বিশেষত্ব
আজকের চন্দ্রগ্রহণটি ‘ব্লাড মুন’ (রক্তাভ চাঁদ) হিসেবে পরিচিত হবে। এটি সিংহ রাশি এবং উত্তর ফাল্গুনী নক্ষত্রে ঘটছে। জ্যোতিষীদের মতে, এই গ্রহণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি হোলির দিনে এবং সূর্যের রাশিচক্র পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। চন্দ্রও আজ দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে রাশি পরিবর্তন করবে। এই সময়ে সূর্য মীন রাশিতে প্রবেশ করবেন, যা বৈদিক জ্যোতিষে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
ভারতে প্রভাব নেই, হোলি অক্ষত
যেহেতু চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান হবে না, তাই এটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা হোলি উৎসবের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। সূতক কাল (গ্রহণের আগে শুরু হওয়া অশুভ সময়) ভারতে প্রযোজ্য হবে না। ফলে ভক্তরা নির্বিঘ্নে হোলির রঙে মেতে উঠতে পারবেন। তবে জ্যোতিষীরা এই দিনে কিছু আধ্যাত্মিক কাজের পরামর্শ দিয়েছেন।
চন্দ্রগ্রহণে করণীয়
আলিপুরদুয়ারের জ্যোতিষী পণ্ডিত রামকৃষ্ণ শাস্ত্রী জানান, “এই দিনে স্নানের পর ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া উচিত। গ্রহণের সময় ধ্যান করা এবং মন্ত্র জপ করলে মানসিক শান্তি মিলবে।” তিনি আরও বলেন, যদিও ভারতে গ্রহণ দেখা যাবে না, তবু এর জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রভাব থাকতে পারে।
বিশ্বে কোথায় দেখা যাবে?
এই চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান না হলেও উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে এটি পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে। ‘ব্লাড মুন’ হিসেবে চাঁদের লালচে আভা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি দৃষ্টিনন্দন ঘটনা হবে।
বিশ্বে ও দেশে সম্ভাব্য প্রভাব
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফাল্গুন পূর্ণিমায় এই চন্দ্রগ্রহণের ফলে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। গ্রহের অবস্থানের কারণে বিশ্বের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে। ভারতের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলির বাণিজ্য এবং সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহণের পরেও এর কিছু নেতিবাচক প্রভাব কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হোলির সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণের মিলন
হোলির এই শুভদিনে চন্দ্রগ্রহণের সমাপতনকে জ্যোতিষীরা বিশেষ বলে মনে করছেন। এটি একদিকে যেমন উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে তুলছে, অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের মানুষের জন্য এটি শুধুই একটি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ঘটনা থেকে যাবে, যা দৈনন্দিন জীবনে বা উৎসবে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
আজকের দিনটি হোলির আনন্দে মেতে ওঠার পাশাপাশি গ্রহণের এই বিশেষত্ব নিয়ে আলোচনারও সুযোগ করে দিয়েছে। ভারতীয়রা যখন রঙে রঙিন হবেন, তখন বিশ্বের অন্য প্রান্তে চাঁদের লাল আভা সকলের দৃষ্টি কাড়বে।