“আমার জাতিকে আক্রমণ করলে আমি…”- শুভেন্দুকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি হুমায়ুঁ কবিরের

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুঁ কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেন, দলের থেকে জাত তাঁর কাছে বড় এবং মুর্শিদাবাদে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রবেশ করলে তাঁকে ঘেরাও করে রাখার হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি, কৌস্তভ বাগচীর ‘বাংলায় গুজরাতের পুনরাবৃত্তি হবে’ মন্তব্যকে তীব্রভাবে নস্যাৎ করেন।
বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুঁ বলেন, “গোটা মুসলিম সমাজকে এভাবে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা বন্ধ না করলে, বা বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে মুর্শিদাবাদে শুভেন্দুকে ঢুকতে দেব না। আগে থেকে যেন জানিয়ে দেয়, কখন আসছেন। আমি আমার ভূমিকা দেখাব। ঘিরে রেখে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “আমার জাতিকে আক্রমণ করলে আমি চুপ করে থাকব না। আমার কাছে দল নয়, আগে আমার জাতি। শুভেন্দুকে কোনওভাবেই ছাড়া হবে না, বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে মুর্শিদাবাদে কী হয়, তা দেখিয়ে দেব।”
শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বলেছিলেন, “যেভাবে শংকর ও মনোজকে বিধানসভা থেকে বার করা হয়েছে, ২০২৬-এ মুসলিম বিধায়কদেরও সেভাবে চ্যাংদোলা করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলব।” এই মন্তব্যের পরই হুমায়ুঁ কবির ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী পাল্টা বলেন, “এক জিহাদি, ৪২ জন জিহাদি সহ, শুভেন্দুকে বিধানসভায় বুঝে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশে জমি, বাড়ি দেখে রাখুন। ২০২৬-এর পর কাজে লাগবে। হিম্মত থাকলে ছুঁয়ে দেখুন, বাংলায় গুজরাতের পুনরাবৃত্তি হবে।”
এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি পাল্টা কড়া অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে সকলের নজর এখন মুর্শিদাবাদের দিকে।