অফিসের টয়লেট থেকে হোটেল, বিদেশে গিয়ে ধর্ষণ ১৮ বছর পর অপরাধীর সাজা

সিঙ্গাপুরের আদালত ১৮ বছর আগের এক ধর্ষণ মামলায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত রঞ্জিত প্রসাদকে ১০ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৭ সালে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন রঞ্জিত। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, রঞ্জিত তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে একাধিকবার কিশোরটিকে যৌন নির্যাতনের শিকার করেছিলেন।
ঘটনার পটভূমি
২০০৭ সালে রঞ্জিত প্রসাদ সিঙ্গাপুরের ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন’ (PA)-এ কর্মরত ছিলেন। সংস্থাটি যুবকদের নিয়ে কাজ করত। সেই সময় ১৬ বছরের এক কিশোর সংস্থার যুব নেটওয়ার্ক প্রোগ্রামে যোগ দিতে আগ্রহী হয়। রঞ্জিত তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে প্রথমে অফিসের টয়লেটে এবং পরে একটি হোটেলে কিশোরটিকে যৌন নির্যাতন করেন। ভয়ে এতদিন চুপ থাকলেও, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট কিশোরটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
আদালতের রায়
মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলার পর সম্প্রতি আদালত রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি জন এনজি বলেন, ‘‘রঞ্জিত তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করেছে এবং তার কাজ নির্যাতিতের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’’ আদালত সব দিক বিবেচনা করে রঞ্জিতকে ১০ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়।
নির্যাতিতের বক্তব্য
নির্যাতিত কিশোরটি আদালতে জানান, রঞ্জিতের কাজের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা চেপে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবনের ওপর এই ঘটনার প্রভাব এতটাই গভীর যে, আমি এখনও তা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’’
সমাজের প্রতিক্রিয়া
এই মামলার রায় সিঙ্গাপুরের সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, পদমর্যাদা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এই রায় ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
রঞ্জিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রঞ্জিত প্রসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে কিশোরটিকে বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার করেছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, রঞ্জিতের কাজ শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও নির্যাতিতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আদালতের সতর্কবার্তা
বিচারপতি জন এনজি তার রায়ে বলেন, ‘‘পদমর্যাদা বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধ করলে তার কঠোর শাস্তি হবে। এই রায় সমাজে একটি বার্তা পাঠাবে যে, এমন অপরাধের কোনো স্থান নেই।’’
এই মামলার রায় ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরে এই রায়ের প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।