“মমতা হিন্দু বিরোধী, দু’বার প্রমাণ করেছেন, ক্ষমা চাওয়া উচিত”- দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হিন্দু বিরোধী’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বার প্রমাণ করেছেন যে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর গলায় গামছা জড়িয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এছাড়াও, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে হারানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বিধানসভায়। মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী ১০ মাসের মধ্যে বাংলার ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের জিতে আসা মুসলিম বিধায়কদের ‘চ্যাংদোলা করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হবে’। এই মন্তব্যের জেরে বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে উঠলে বিজেপি বিধায়করা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চেয়ারকে সম্মান করতে হয়। বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। ধর্মীয় কার্ড খেলছে।” এর মধ্যেই বিজেপি বিধায়করা পকেট থেকে কাগজ ছিঁড়ে ওয়াকআউট করেন।

বিধানসভার বাইরে এরপর ধর্নায় বসেন বিজেপি বিধায়করা। সেখানে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শঙ্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, “তৃণমূল বিরোধী দলনেতাকে খুন করার চক্রান্ত করেছে। কালো জামা পরিয়ে বিধানসভার মধ্যে লোক ঢোকানো হয়েছে।”

শুভেন্দু অধিকারী এরপর তীব্র ভাষায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী চুপিচুপি এসেছেন। সোমবারে আসেন না, স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনা হয় না। আমার অপরাধ এটাই যে আমি ১৯৫৬ ভোটে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছিলাম। আমি হিন্দু, জনজাতিদের কথা বলি, ‘জয় শ্রী রাম’ বলি, ‘বন্দে মাতরম’ বলি। মুখ্যমন্ত্রী মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে গোটা হিন্দু সম্প্রদায়কে অপমান করেছেন। তাঁকে গলায় গামছা নিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৯৯৯ সালে আপনার দলে এসেছি। আমরা না এলে আপনি সব ভোটে হারতেন। অধিকারীরাই আপনাকে জিতিয়েছে। নন্দীগ্রামের আন্দোলন না হলে আপনি দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন। আমি আপনাকে নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, এবার ভবানীপুরেও হারাব। আরও ৫ বছর হারের যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।”

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘হিন্দু বিরোধী’ বলে আক্রমণ করে আরও বলেন, “দুর্গাপুজোর বিসর্জনের দিন মহরমের জন্য বদলে দিয়েছিলেন। আপনার আইসি বলছে হোলিতে মদ খেয়ে বেরোনো যাবে না। পুলিশকে বলুন, দোল আর হোলির দিন মদের দোকান বন্ধ রাখতে। অষ্টমীতে মদের দোকান খোলা রেখেছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী দু’বার হিন্দু বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেছেন—প্রথমবার রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ পেয়েও না গিয়ে, দ্বিতীয়বার মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে। তিনি যোগ করেন, “আপনার দলের ৫০ জন বিধায়ক, ৩ জন সাংসদ কুম্ভে স্নান করেছেন।”

এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।