বেসরকারি স্কুলে লাগামছাড়া ফি, নতুন বিল আনছে রাজ্য সরকার!-জানালেন ব্রাত্য বসু

বেসরকারি স্কুলগুলির অস্বাভাবিক ফি বৃদ্ধি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে বিধানসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়ম রুখতে একটি নতুন কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজ্য সরকার শীঘ্রই একটি বিল আনছে।
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিজেপির এক বিধায়কের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “বেসরকারি স্কুলগুলিতে লাগাতার ফি বৃদ্ধি নিয়ে অভিভাবকদের অসন্তোষ বাড়ছে। আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে— ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও স্কুল ভবনের বেহাল অবস্থার মতো বিষয় নিয়েও। তাই রাজ্য সরকার এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি কমিশন গঠন করছে। একইসঙ্গে, ফি বৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়ম রোধে আমরা একটি নতুন বিল আনতে চলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখেছি। তবে সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি করা সম্ভব নয়। তাই এই বিল আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”
এই ঘোষণার পরেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিক্ষাবিদ দেবাশিস সরকার। তিনি বলেন, “বেসরকারি স্কুলগুলির লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তা অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। তবে একটা বিষয় ভাবতে হবে— কেন অধিকাংশ অভিভাবক সরকারি স্কুলের বদলে বেসরকারি স্কুলে বেশি টাকা খরচ করে সন্তানদের পড়াশোনা করাতে চাইছেন? কারণ, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থার অভাব বাড়ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি ও শিক্ষক নিয়োগের গাফিলতি দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
কিছুদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে রাজ্যকে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, গত কয়েক মাসে রাজ্যের একাধিক বেসরকারি স্কুলের ‘চার্জ’ নামে ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “এভাবে ফি বৃদ্ধি কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে?” একইসঙ্গে, তিনি রাজ্যকে ‘রাজস্থান মডেল’ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যেখানে বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরই রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন কমিশন এবং আসন্ন বিল— দুই মিলিয়ে এবার বেসরকারি স্কুলগুলির বেপরোয়া ফি বৃদ্ধিতে লাগাম টানার চেষ্টা করবে রাজ্য। তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।