বাংলায় বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের আগেই বড় সংকট, দল ছাড়ছেন একের পর এক বিধায়ক

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সরকারি বিরোধী দল বিজেপি (BJP) বর্তমানে সংকটের মুখে। সভাপতি নির্বাচনের আগেই একের পর এক বিধায়ক দল ছাড়ছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে, যা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৭৭ থেকে ৬৫: বিধায়ক সংখ্যায় ধস
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন জিতেছিল। তবে এর মধ্যে দুজন সাংসদ বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় দলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫। কিন্তু তারপর থেকে একের পর এক বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়াও, একজন বিধায়কের মৃত্যু এবং আরেকজন লোকসভা নির্বাচনে জিতে সংসদে চলে যাওয়ায় বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে ৬৫-এ দাঁড়িয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের উপর চাপ
বিজেপির এই ভাঙন রোধে ব্যর্থতার জন্য রাজ্য বিজেপির দুই শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী (বিরোধী দলনেতা) এবং সুকান্ত মজুমদার (রাজ্য সভাপতি) চাপের মুখে রয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে এই সংকট মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দলের বিধায়ক সংখ্যা কমে যাওয়ায় গেরুয়া শিবিরে উদ্বেগ বেড়েছে।

৮ বিধায়ক নিয়ে অনিশ্চয়তা
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৮ জন বিধায়ককে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে শঙ্কা রয়েছে। তাদের দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই বিধায়করা যদি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন, তাহলে বিজেপির অবস্থা আরও শোচনীয় হবে।

তাপসী মণ্ডলের দলবদল
সোমবার তাপসী মণ্ডলের দলবদল বিজেপিতে নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। তিনি সকালে বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে দলীয় সতীর্থদের সঙ্গে কথা বললেও পরে নিঃশব্দে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই ঘটনা বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সভাপতি নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ
চলতি বছর রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যে নতুন সভাপতির উপরও চাপ থাকবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে সংগঠিত করা এবং বিধায়কদের দলবদল রোধ করা নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
বিজেপির এই সংকট তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিধায়ক সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিধানসভায় বিরোধী দলের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিকে আগামী নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী কৌশল নিতে হবে।

সামনের দিনগুলি
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দলবদলের এই ধারা রোধ করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে। নতুন সভাপতি নির্বাচন এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংগঠনকে শক্তিশালী করার উপরই নির্ভর করছে বিজেপির ভবিষ্যৎ।

এই সংকটের মধ্যে বিজেপিকে নতুন করে সংগঠিত হওয়া এবং বিধায়কদের আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায়, রাজ্য রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।