OMG! মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসছে শিবলিঙ্গ, বাংলার এই গ্রামজুড়ে হই হই কান্ড

বীরভূমের নানুরের সাকুলিপুরে কয়েকশো বছরের প্রাচীন শিবমন্দিরের সংস্কার কাজ চলাকালীন এক চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী হলেন গ্রামবাসীরা। মন্দিরের পিলার বসানোর জন্য খনন শুরু করতেই মাটির নীচে একের পর এক শিবলিঙ্গ প্রকাশ পেতে লাগল। প্রায় ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খোঁড়ার পরও শিবলিঙ্গের সন্ধান মেলায় গ্রামের লোকজন সিদ্ধান্ত নেন, এই জায়গায় আর খনন করা হবে না। তাঁদের বিশ্বাস, এই শিব ‘পাতালেশ্বর’—যত গভীরে খনন হবে, ততই শিবলিঙ্গ উঠে আসবে। এই ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার।
সাকুলিপুরের এই শিবমন্দির সাকুলেশ্বর, পাতালেশ্বর ও অনাদিলিঙ্গ নামে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, এক সময় এখানে তিলি সম্প্রদায়ের বাস ছিল। তাঁরাই এই শিবলিঙ্গের পুজো শুরু করেছিলেন। সে সময় এখানে বিরাট মেলা বসত, নিয়মিত পুজো-অর্চনা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই প্রাচীন মন্দির জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই গ্রামবাসীরা সম্প্রতি মন্দির সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন এবং কাজ শুরু করেন।
ইতিহাস বলে, তিলি পরিবার অজ্ঞাত কারণে সাকুলিপুর ও নানুর ছেড়ে চলে গেলে এই জায়গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হাতে চলে যায়। মুন্সি গোলাম গউস নামে এক বাসিন্দা দাবি করেন, তাঁর পূর্বপুরুষরা পারস্য থেকে এসে এখানে জমি কিনে বসতি গড়েছিলেন। তাঁরাই মন্দিরের চারপাশে পাঁচিল তুলে দিয়েছিলেন। গোলাম গউস বলেন, “এ গ্রাম সম্প্রীতির গ্রাম। হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে থাকি। মন্দির নতুন করে তৈরি হচ্ছে, এতে আমিও খুশি।”
মন্দিরের সেবাইত সন্তোষ বটব্যাল জানান, “আমার দাদু এখানে পুজো করতেন, এখন আমি করি। সোমবার মন্দিরের কাজের জন্য মাটি খোঁড়া হচ্ছিল। যত দূর খুঁড়েছি, ততই শিবলিঙ্গ পেয়েছি। আমরা শুনেছিলাম এখানে পাতালেশ্বর ভৈরবনাথ অনাদিলিঙ্গ আছেন। এখন তা চোখে দেখলাম।” স্থানীয় বাসিন্দা মানিকচন্দ্র কারক ও কৌশিক রায়ও একই বিশ্বাসের কথা জানান। তাঁরা বলেন, “সাকুলেশ্বর অনাদিলিঙ্গের প্রমাণ মিলেছে। জনশ্রুতি আছে, এই শিব পাতাল থেকে উঠে এসেছেন। এর অন্ত নেই। তাই ৫ ফুট খুঁড়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”
ইতিহাসবিদ ও সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যাপক পার্থশঙ্কর মজুমদার এই ঘটনা নিয়ে বলেন, “সাকুলিপুর একটি প্রাচীন গ্রাম, যার পুরোনো নাম ছিল কিসমত সাখলি পুর। ধর্মমঙ্গলের সঙ্গে এর যোগ আছে। শিবপুজো এখানে বহু পুরোনো। তবে সোমবার যা দেখা গেছে, তাতে মনে হয় প্রথমে যে শিবলিঙ্গ ছিল, তার কিছু অংশ মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল। মন্দির পুনর্নির্মাণের সময় উপরের অংশটাই দৃশ্যমান ছিল। মাটি সরাতে পুরোটা বেরিয়ে এসেছে। আমার মতে, মাটির নীচের অংশে হাত না দিয়ে পাশে মন্দির তৈরি করা যেতে পারে।”
এই ঘটনা গ্রামে উৎসাহ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। শিবলিঙ্গের এই আবির্ভাবে পাতালেশ্বরের প্রতি গ্রামবাসীদের বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। মন্দির সংস্কারের কাজ এখন কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।