ভাঙড়ে রক্তারক্তি কান্ড, দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তিতে বঁটি নিয়ে হামলা, আশঙ্কাজনক ২

রাজ্যে ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। খেলার ঝামেলাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে রক্তাক্ত হাতাহাতিতে। ধারালো অস্ত্র ও আঁশবটি নিয়ে একই পরিবারের ছ’জনকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের চন্দনেশ্বর থানার অন্তর্গত মলি মুকুন্দী গ্রামে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে দুই পরিবারের সন্তানদের খেলাকে কেন্দ্র করে। হারান মোল্লার পরিবারের ছেলে এবং লায়েপ মোল্লার পরিবারের ছেলেদের মধ্যে খেলার সময় ঝামেলা শুরু হয়। এই ঝামেলা মেটাতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, লায়েপ মোল্লার পরিবারের লোকজন ধারালো অস্ত্র ও আঁশবটি নিয়ে হারান মোল্লার পরিবারের ওপর চড়াও হয়। এরপর তারা এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে।

ছ’জনের ওপর হামলা, দু’জনের অবস্থা গুরুতর
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা একটি সন্তান-সহ হারান মোল্লার পরিবারের ছ’জনকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। আহতদের জখম অবস্থায় স্থানীয় মানুষ উদ্ধার করে নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর একটি সন্তান-সহ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি আহতদেরও চিকিৎসা চলছে।

এলাকায় চাঞ্চল্য, পুলিশি তৎপরতা
এই নৃশংস ঘটনায় মলি মুকুন্দী গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর পেয়ে চন্দনেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কী বলছেন স্থানীয়রা?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুই পরিবারের মধ্যে এই ধরনের ঝামেলা নতুন নয়। তবে এবার তা এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। খেলার মতো তুচ্ছ বিষয় থেকে শুরু হওয়া ঝগড়া যে রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেবে, তা এলাকার মানুষের কাছে হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা।

এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও এই ঘটনার পেছনের পুরো ঘটনাপ্রবাহ উদঘাটনের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।