AC-লোকাল ট্রেন আসছে বাংলায়, জেনেনিন যাত্রীদের ভাড়া কত হতে পারে?

নিত্যযাত্রীদের কাছে লোকাল ট্রেনে যাতায়াতের কষ্ট কোনও নতুন কথা নয়। প্রচণ্ড গরমে ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সমস্যার সমাধানে বহুদিন ধরেই রেল কর্তৃপক্ষ এসি লোকাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল। এবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। শিয়ালদা রুটে শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে এসি লোকাল ট্রেন। পূর্ব ভারতে এটাই হবে প্রথম এসি লোকাল ট্রেন, আর দেশে দ্বিতীয়।

কবে থেকে চালু হবে এসি লোকাল?
বর্তমান অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শিয়ালদা রুটে এসি লোকাল ট্রেন চালু হয়ে যাবে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে এই ট্রেন তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি সপ্তাহেই ট্রেনটি বাংলায় পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে। ১২ কোচের এই ট্রেন শিয়ালদা লাইনে যাত্রীদের জন্য ছুটবে।

ভাড়া হবে বেশি
এসি ট্রেন তৈরির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্যও রেলকে বাড়তি ব্যয় করতে হবে। ফলে এসি লোকাল ট্রেনের ভাড়াও সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই বেশি হবে। রেল সূত্রে খবর, এসি ট্রেনের টিকিটের দাম সাধারণ ট্রেনের তুলনায় ৭ থেকে ১০ গুণ বেশি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যে রুটে সাধারণ ট্রেনের টিকিট ১০ টাকা, সেখানে এসি লোকালের টিকিটের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এসি ট্রেন কখন আসবে, কীভাবে বুঝবেন?
এই এসি লোকাল ট্রেন নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলবে। রেলের টাইমটেবিলে এর সময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। যাত্রীরা সেই সময় দেখে ট্রেনে উঠতে পারবেন। রেল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান টাইমটেবিলে কোনও পরিবর্তন না করে, সাধারণ ট্রেনের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এসি ট্রেন চালানো হবে।

এসি ট্রেন কেমন দেখতে হবে?
সাধারণ লোকাল ট্রেনের মতো আলাদা আলাদা কোচ এই ট্রেনে থাকবে না। বরং মেট্রো বা দূরপাল্লার ট্রেনের মতো ভেস্টিবিউলের মাধ্যমে কোচগুলো সংযুক্ত থাকবে। এর ফলে এসির ঠান্ডা বাইরে বেরোতে পারবে না। এছাড়া, এসি ট্রেন হওয়ায় মেট্রোর মতো অটোম্যাটিক স্লাইডিং ডোর থাকবে, যা যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা দেবে।

যাত্রীদের জন্য সুখবর
গরমে হাঁসফাঁস করা নিত্যযাত্রীদের জন্য এসি লোকাল ট্রেন নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। তবে ভাড়া বেশি হওয়ায় সবাই এই সুবিধা নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের চাহিদা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদা রুটে এই ট্রেন চালু হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য রুটেও এমন পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন যাত্রীরা অপেক্ষায় রয়েছেন, কবে থেকে এই আরামদায়ক যাত্রা শুরু করতে পারবেন।