OMG! সোনার দোকানে ঢুকেই গয়না মুখে চালান শাশুড়ির, ধরা পড়তেই বললেন, ‘আমি পাগল’

বীরভূমের সিউড়িতে এক অভিনব চুরির ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রানিশ্বর লাগোয়া হকিকতপুরের বাসিন্দা কল্যাণী গড়াই এবং তাঁর বউমা সোমবার সিউড়ির টিন বাজারে একটি সোনার দোকানে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে গয়না দেখার ফাঁকে কল্যাণী বেশ কয়েকটি সোনার নাকছাবি মুখে পুরে নেন। পরে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এই ঘটনা ধরা পড়ে। তবে ধরা পড়ার পর কল্যাণী দাবি করেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এই কাজটি পাগলামির কারণে করেছেন। তবে দোকানের মালিক এই দাবি মানতে নারাজ।

জানা গেছে, কল্যাণী সোমবার তাঁর বউমাকে নিয়ে সিউড়িতে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। এরপর তারা দু’জন টিন বাজারে একটি সোনার দোকানে প্রবেশ করেন। দোকানে গয়না দেখার সময় কল্যাণী বেশ কয়েকটি সোনার নাকছাবি মুখে পুরে নেন বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ পর দোকানের মালিক লক্ষ্য করেন, কয়েকটি নাকছাবি হদিস মিলছে না। এরপর তিনি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন এবং কল্যাণীর চুরির প্রমাণ পান।

দোকানের মালিকের অভিযোগ, কল্যাণী ছক কষেই এই চুরির কাজটি করেছেন। তিনি বলেন, “এমন কাজ কোনো পাগলামির মধ্যে করা সম্ভব নয়। তিনি খুব সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করেছেন।” তবে কল্যাণী পুলিশের কাছে দাবি করেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এই কাজটি তাঁর বুদ্ধিবিবেচনাহীন অবস্থায় করেছেন।

ঘটনাটি ধরা পড়ার পর দোকানের মালিক কল্যাণী এবং তাঁর বউমাকে দোকানে আটক করে সিউড়ি থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে কল্যাণীকে আটক করে। দোকানের মালিক তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় সোমবার সিউড়ি এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা কল্যাণীর এই কাজকে ‘অদ্ভুত’ এবং ‘অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকের মতে, মানসিক সমস্যার দোহাই দিয়ে এমন কাজ করা উচিত নয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, যদি সত্যিই তাঁর মানসিক সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন।

এদিকে, কল্যাণীর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কল্যাণী আগে কখনও এমন কোনো কাজ করেছেন বলে শোনা যায়নি। পুলিশের তদন্তে উঠে আসবে, এই ঘটনার পেছনের আসল কারণ কী।

এই ঘটনায় সোনার দোকানের মালিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা ভাবছেন। তাঁরা বলছেন, এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য দোকানে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী কল্যাণীর কাজের নিন্দা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেছেন। এখন সকলের চোখ পুলিশের তদন্তের দিকে, যা এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারে।