“বহুতল ‘বেআইনি বিল্ডিং’ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে মালিককেই”- নির্দেশ দিলো পুরসভা

বর্ধমান পুরসভার কড়া পদক্ষেপে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কালীবাজার মোড়ের কাছে জি টি রোডের পাশে নির্মাণাধীন একটি আটতলা বিল্ডিংকে অবৈধ ঘোষণা করে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার অভিযোগ, এই বিল্ডিংটি কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে। পুরসভার পক্ষ থেকে বিল্ডিং মালিক তুহিনকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ দিনের মধ্যে বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে মালিকের দাবি, তিনি পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার জানান, গত বছর ৩ ডিসেম্বর পুরসভার আধিকারিকরা ওই বিল্ডিং পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে দেখা যায়, বিল্ডিংটির নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে, কিন্তু এর কোনো অনুমোদন নেই। এরপরই বিল্ডিংয়ের গায়ে নোটিস টাঙিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু মালিক কোনো কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় এবার পুরো বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, “বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কোনো অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। মালিককে ১৫ দিনের মধ্যে বিল্ডিং ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তিনি তা না করেন, তাহলে পুরসভার তরফ থেকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হবে।”

তবে বিল্ডিং মালিক তুহিনকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভার এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন। তিনি জানিয়েছেন, পুরসভার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তুহিনকান্তি বলেন, “পুরসভার নোটিসের বিরুদ্ধে আমি আদালতে গিয়েছি। আদালত যা নির্দেশ দেবে, আমি তা মেনে নেব।”

এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভার কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকের মতে, বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হলে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জনসাধারণের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। আবার কেউ কেউ বলছেন, মালিকের পক্ষ থেকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়াটাই যৌক্তিক।

বর্ধমান পুরসভার এই পদক্ষেপকে অন্যান্য পুরসভার জন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেআইনি নির্মাণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুরসভার এই সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখন সকলের কৌতূহলের বিষয়।

এদিকে, পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালিক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল্ডিং না ভাঙেন, তাহলে পুরসভার তরফ থেকে তা ভেঙে ফেলা হবে এবং সেই খরচ মালিককে বহন করতে হবে। এই ঘটনায় আইনি লড়াই এবং পুরসভার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখন সকলের চোখ থাকবে আদালতের দিকে।