ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বানিয়ে পুলিশের জালে পঞ্চায়েত কর্মী, গ্রেফতার হলেন অভিযুক্ত

ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন নদীয়ার চাপড়ার এক পঞ্চায়েত কর্মী। অভিযুক্তের নাম আশিস কর্মকার। তাঁর বাড়ি চাপড়ার শ্রীবাসপল্লী এলাকায়। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তিনি ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দিতেন। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রমরমিয়ে চলেছে এই জালিয়াতির কারবার।

হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভিনরাজ্যের বাসিন্দা-সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষদের জন্য ‘নন-ইনস্টিটিউশনাল বার্থ সার্টিফিকেট’ ইস্যু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত এক বছরে প্রায় সাড়ে এগারোশো ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যার জন্য অভিযুক্ত মোটা টাকা হাতিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় বেনামে সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালানো হত বলে অভিযোগ।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সীমান্তবর্তী হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর চাপড়া থানার পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। অভিযানে একটি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আশিস কর্মকার এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। জানা গেছে, তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাঙিয়াপোতা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে চাপড়া থানার আইসি অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

পুলিশি জেরায় আশিস কর্মকার জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। রবিবার (৯ মার্চ) তাঁকে কৃষ্ণনগর জেলা দায়রা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ তাঁর ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।

এই ঘটনায় হৃদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিউটি খাতুন বলেন, “বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে শোকজ করা হয়েছে। আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, এই জালিয়াতির জাল আরও কতদূর ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।