বার্ড ফ্লু নিয়ে জারি সতর্কতা, মুরগির মাংসের দাম কমলেও মিলছে না ক্রেতা, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

মুরগির মাংস যাঁদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় না থাকলে চলেই না, তাঁরাও এখন চিকেনের দোকানের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১ ভাইরাস) নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় মুরগির মাংসের দাম কমলেও ক্রেতা টানতে ব্যর্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে মুরগির মাংসের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা কমলেও অনেক দোকানে চিকেনের আইটেম মিলছে না। দেশের ৯টি রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্কতা জারির পর এই আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ডেয়ারি ও পশুপালন বিভাগ গত ৭ মার্চ একটি নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বার্ড ফ্লু নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। এই নির্দেশিকায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অনুসরণ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পোলট্রি ফার্ম ও পাখির মার্কেটগুলিতে কড়া নজরদারি চলছে। ভাইরাসের সংক্রমণ যাতে আরও না ছড়ায়, সেজন্য আক্রান্ত এলাকায় মুরগি মেরে ফেলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
গত সপ্তাহে ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে একটি সরকারি পোলট্রি ফার্ম থেকে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর খবর পাওয়ার পর ২৫০টি পাখি মারা যায়। এরপর সেখানে ৫,৫০০ মুরগি মেরে ফেলা হয়েছে। এছাড়া, তেলঙ্গানায় সংক্রমণ ছড়ানোর পর ৩,৫০০-এর বেশি দেশি মুরগি ধ্বংস করা হয়েছে। গত মাসে অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় বার্ড ফ্লু সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে মুরগি আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এইচ৫এন১ ভাইরাসের প্রভাবে পোলট্রি ফার্মে প্রতিপালিত মুরগি ও অন্যান্য প্রাণীরা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। ঝাড়খণ্ড, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ মোট ৯টি রাজ্যে এখন পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দাম কমানো সত্ত্বেও চাহিদা এতটাই কমে গেছে যে অনেক দোকানে মুরগির মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দাম অনেক কমিয়েছি, তবুও কেউ কিনতে আসছে না। মানুষ ভয়ে মুরগির মাংস ছুঁতে চাইছে না। এভাবে চললে আমাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল।” পোলট্রি ফার্মের মালিকরাও চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খামারে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বার্ড ফ্লু সাধারণত মানুষের মধ্যে সহজে ছড়ায় না। তবে সতর্কতার জন্য মুরগির মাংস ও ডিম ভালো করে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবুও, আতঙ্কের ছায়া কাটছে না। সরকার ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করলেও, মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে ক্রেতাদের ভরসা ফিরিয়ে আনা যায়।