সিঁদুরদান হতেই পাত্রী বলল, ‘আমার প্রেমিক আছে…!’, অতঃপর যা করলেন বীরভূমের যুবক…?

আলোর রোশনাইয়ে ঝলমল করছিল ঘর-বারান্দা। সন্ধ্যায় অতিথি-অভ্যাগতরা কব্জি ডুবিয়ে ভোজ খেয়ে গিয়েছেন। বিয়ের লগ্ন ছিল ভোর ৫টায়। পূর্ব আকাশে সূর্যের রাঙা আভা ফোটার আগেই কনের সিঁথি রাঙানো হয়েছে সিঁদুরে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে মুখরিত ছিল বিয়ে বাড়ি। হইহই করে চলছিল আনন্দের আয়োজন। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মিটতেই সেই ছবি বদলে যায় মুহূর্তের মধ্যে। নতুন বউ বরকে একান্তে ডেকে এমন কথা জানান, যাতে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় পাত্র ও তাঁর পরিবারের।

মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা যেন জমজমাট কোনও সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। বীরভূমের কীর্ণাহারের এক যুবক, যিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত, তাঁর বয়স ২৫। পাত্রীর বাড়ি বড়ঞায়, বয়স ১৯। দুই পরিবারের দেখাশোনার পরেই ঠিক হয়েছিল এই বিয়ে। গত বৃহস্পতিবার ছিল সেই শুভদিন। রাতে বীরভূম থেকে বরযাত্রী নিয়ে বড়ঞায় পৌঁছন ওই যুবক। শুক্রবার ভোরে লগ্ন মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু তারপরই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

বিয়ের পর নববধূ বরকে আলাদা করে ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি জানান, তাঁর একজন প্রেমিক রয়েছেন, যাকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসেন। বাধ্য হয়েই তিনি এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সাতপাক ঘুরলেও বা বিয়ের মন্ত্র পড়লেও, স্ত্রীর ধর্ম পালন করা তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই কথা শুনে হতবাক হয়ে যান ওই যুবক। সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে তাঁকে বউকে এখানে রেখেই ফিরতে হবে। তিনি বুঝতে পারেন, এই বিয়ে টেকানো অসম্ভব।

এরপরই তিনি নববধূকে নিয়ে বড়ঞা থানায় হাজির হন এবং লিখিত অভিযোগে পুরো ঘটনা জানান। থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার জানান, পাত্র-পাত্রী উভয়েই সাবালক এবং বিষয়টি ব্যক্তিগত স্তরের হওয়ায়, তাঁদের কান্দি মহকুমাশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়। সেখানে পাত্রী বাড়ি ফিরতে অস্বীকার করে লিখিত আবেদন জানান। তিনি জানান, বাপের বাড়িতে ফিরলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি থাকতে পারে। এরপর মহকুমাশাসকের নির্দেশে তাঁকে সরকারি হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে, মেয়ের এই কথা শোনার পরও পাত্রীপক্ষ চেয়েছিল জামাই যেন বউকে নিয়েই বাড়ি ফেরেন। অভিযোগ, তারা জোরজবরদস্তি ও অশান্তি শুরু করে। এই ঘটনায় পাত্রীর এক জেঠু, এক দাদা-সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বড়ঞা থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পাত্র ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে মারধরের হুমকি ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কান্দির মহকুমাশাসক উৎকর্ষ সিং জানান, “পাত্রী বাড়িতে থাকতে সুরক্ষিত বোধ করছিলেন না। তাই তাঁকে খড়গ্রামে সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে।” এই ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিয়ের আনন্দে মুখরিত একটি পরিবার কীভাবে মুহূর্তে বিপর্যয়ের মুখে পড়ল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।