মাথার দাম ২৫ হাজার, ১৮ বছর ধরে পালিয়েও হলোনা লাভ, গ্রেফতার হিজবুল জঙ্গি

উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) আরও একবার বড় সাফল্য অর্জন করেছে। মহাকুম্ভে নাশকতার ছক বানচালের পর এবার তাদের জালে ধরা পড়েছে কুখ্যাত হিজবুল মুজাহিদ্দিন জঙ্গি উলফত হুসেন ওরফে মহম্মদ সইফুল ইসলাম। গত ১৮ বছর ধরে এই জঙ্গির খোঁজে তৎপর ছিল পুলিশ। এমনকী তার সন্ধানের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার। শুক্রবার মোরাদাবাদ পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে উত্তরপ্রদেশ ATS এই পলাতক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, উলফত হুসেন জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার ফজলাবাদের বাসিন্দা। মোরাদাবাদের কাটঘর থানায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ নম্বর ধারাসহ একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। ATS-এর অতিরিক্ত ডিজি নীলাব্জ চৌধুরী জানিয়েছেন, উলফত হুসেন হিজবুল মুজাহিদ্দিনের প্রাক্তন সদস্য। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে সে পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। মোরাদাবাদে ফিরে এসে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পুরোনো মামলার সূত্র ধরেই তার খোঁজ চলছিল। গোপন সূত্র থেকে তথ্য পেয়ে শুক্রবার মোরাদাবাদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উলফত হুসেন আবারও বড় কোনও নাশকতার ছক কষছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ATS ও মোরাদাবাদ পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। এর আগে ২০০১ সালের ৯ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক। এর মধ্যে ছিল একটি AK-47, একটি AK-56, দুটি ৩০ বোরের পিস্তল, ১২টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৩৯টি টাইমার, ৫০টি ডিটোনেটর, ৩৭টি ব্যাটারি, ২৯ কেজি বিস্ফোরক, ৫৬০টি লাইভ কার্টিজ এবং আটটি ম্যাগাজিন। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পালিয়ে যায় এবং ১৮ বছর ধরে পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। অবশেষে এদিন তার সন্ধান মেলে।
ATS-এর টানা সাফল্য
উল্লেখযোগ্য, মাত্র দুদিন আগে মহাকুম্ভে নাশকতার পরিকল্পনাকারী আরেক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছিল উত্তরপ্রদেশ ATS। এবার উলফত হুসেনের গ্রেপ্তারির মধ্য দিয়ে আরও একটি সম্ভাব্য হামলার ছক বানচাল করা হল। ATS-এর এই টানা সাফল্যে রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তে পুলিশ
নীলাব্জ চৌধুরী জানান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই গ্রেপ্তারি রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মোরাদাবাদে এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এই সাফল্যের জন্য উত্তরপ্রদেশ ATS ও মোরাদাবাদ পুলিশের প্রশংসা করেছেন অনেকে। জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে রাজ্য পুলিশের এই তৎপরতা নিরাপত্তার দিক থেকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।