“কার্গিল যুদ্ধের সময় POK ফেরানো গিয়েছিল?”- এস জয়শঙ্করকে খোঁচা কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রীর

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “কে বাধা দিয়েছে কাশ্মির ফিরিয়ে আনতে? শুধু পাকিস্তানের কাশ্মির নয়, চীনের দখলে থাকা অংশও ফিরিয়ে আনুন।” জয়শঙ্করের দাবির প্রতিবাদে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময়ও কি পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মির ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মির বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও বিজেপি সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মিরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে, যা মহারাজা হরি সিংয়ের সময়কার আকৃতির সঙ্গে মেলে না।”

জয়শঙ্কর সম্প্রতি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “কাশ্মির সমস্যার সমাধান অনেকটাই হয়ে গেছে। পাকিস্তান যে অংশ দখল করে রেখেছে, তা ফিরিয়ে আনলেই সমস্যার পুরো সমাধান হয়ে যাবে।” এর জবাবে বিধানসভায় ওমর আবদুল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “কে আপনাদের বাধা দিয়েছে? আমরা কি কখনও বলেছি ফিরিয়ে আনবেন না? যদি পারেন, তাহলে শুধু পাকিস্তানের অংশ নয়, চীনের দখলেও থাকা কাশ্মিরও ফিরিয়ে আনুন।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
কাশ্মির নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার সময় থেকেই শুরু। দুই দেশই এই হিমালয় অঞ্চলের পুরোটা দাবি করে, কিন্তু শাসন করে শুধু কিছু অংশ। ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান-সমর্থিত পাশতুন উপজাতীয় বাহিনীর আক্রমণের পর কাশ্মিরের মহারাজা হরি সিং ভারতের সঙ্গে যোগদানের চুক্তি করেন। এরপর শুরু হয় প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। তবে পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার না করায় কাশ্মির ভাগ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে চীন-ভারত যুদ্ধে চীন আকসাই-চিন দখল করে, এবং ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ট্রান্স-কারাকোরাম অঞ্চল চীনের হাতে তুলে দেয়। ফলে কাশ্মির এখন ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে তিন ভাগে বিভক্ত।

রাজনৈতিক উত্তাপ
ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যে কার্গিল যুদ্ধ ও হাজিপার সেক্টর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, “কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দখল থেকে কাশ্মির ফিরিয়ে আনা গেল না। সেটা তো একটা সুযোগ ছিল। এখন পারলে ফিরিয়ে আনুন।” তিনি আরও জানান, চীনের দখলে থাকা অংশ নিয়ে কেন কেউ কথা বলছেন না, তা বোধগম্য নয়।

এদিকে, ২০১৯ সালে ভারত সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে। এই সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন আবদুল্লাহ।

উত্তপ্ত কাশ্মির ইস্যু
পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তান কাশ্মির নিয়ে দুটি যুদ্ধে লড়েছে। বর্তমানে চীনের ভূমিকা এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। ওমর আবদুল্লাহর এই চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত জয়শঙ্কর বা কেন্দ্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি।

কাশ্মির ইস্যু এখনও দক্ষিণ এশিয়ার একটি জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে, যার সমাধান দৃষ্টিপথের বাইরে।