“কিমের দেশে প্রবেশ নিষেধ!”-পর্যটকদের জন্য দুয়ার বন্ধ উত্তর কোরিয়ার, নিষেধাজ্ঞার কারণ কি?

কয়েক সপ্তাহের জন্য পশ্চিমা পর্যটকদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত রাখার পর আবারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উত্তর কোরিয়া। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সীমান্ত বন্ধ করার পর গত বছর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই পর্যটকদের জন্য দেশটির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার পর্যটকদের জন্য সীমিত আকারে পর্যটন সুবিধা চালু করে। গত মাসে পশ্চিমা পর্যটকরা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাসন নামের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন ট্যুর অপারেটর কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ায় পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারবেন না।

কী কারণে নিষেধাজ্ঞা?
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে চীনাভিত্তিক ট্যুর অপারেটর কেটিজি ট্যুরস জানিয়েছে, তারা তাদের কোরীয় অংশীদারদের কাছ থেকে খবর পেয়েছে যে রাসন শহরটি সবার জন্যই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা পরবর্তী আপডেট জানাবে।

ইয়াং পাইওনিয়ার ট্যুরস এবং কোরিও ট্যুরস নামের দুটি সংস্থাও একই ধরনের বার্তা দিয়েছে। ইয়াং পাইওনিয়ার ট্যুরস তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, এপ্রিল এবং মে মাসে যারা ফ্লাইট বুকিং দিতে চাচ্ছেন, তারা পরবর্তী তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বুকিং দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

রাসন অঞ্চল ও পর্যটন
রাসন উত্তর কোরিয়ার একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমা পর্যটকদের জন্য এই অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ট্যুর অপারেটরগুলো জানিয়েছে, করোনা মহামারির সময়ের চেয়েও এখন আরও বেশি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। রাসন অঞ্চলে ফোনের সিগন্যাল এবং ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

পর্যটনের ইতিহাস
২০১৯ সালে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বিদেশি পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই ছিলেন চীনা নাগরিক। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালের শুরুতেই উত্তর কোরিয়া তার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দেশটির এই পদক্ষেপের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

উত্তর কোরিয়ার পর্যটন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন দেখার বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।