“গাজা ছেড়ে চলে যান, নইলে চড়া মূল্য দিতে হবে”— হামাসকে ‘লাস্ট ওয়ার্নিং’ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের উদ্দেশ্যে ‘লাস্ট ওয়ার্নিং’ বা ‘শেষ সতর্কতা’ জারি করেছেন। এই হুঁশিয়ারিতে তিনি হামাস নেতাদের গাজায় আটক সকল ইসরায়েলি বন্দিকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং গাজা উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন।

আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো যখন হোয়াইট হাউস ১৯৯৭ সালের পর প্রথমবারের মতো হামাসের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য গাজায় আটক মার্কিন ও ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “এটি আপনাদের জন্য শেষ সতর্কতা! হামাস নেতৃত্বের জন্য এখনই সময় গাজা ত্যাগ করার, যতক্ষণ আপনাদের এই সুযোগ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “গাজার জনগণের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। কিন্তু বন্দিদের আটকে রাখলে তা সম্ভব হবে না। যদি তা করেন, আপনারা মৃত! স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিন। এখনই বন্দিদের মুক্ত করুন, নইলে পরে চড়া মূল্য দিতে হবে।”

আলোচনার পটভূমি
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের দূত অ্যাডাম বোহেলার কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অভূতপূর্ব’ পদক্ষেপ, কারণ ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর থেকে দেশটি এই গোষ্ঠীর সঙ্গে কখনো সরাসরি কথোপকথনে বসেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, এই আলোচনায় মার্কিন বন্দিদের মুক্তির পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধবিরতি ও সকল বন্দির মুক্তির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

গাজার বর্তমান পরিস্থিতি
ইসরায়েল গাজা ভূখণ্ডের ওপর কঠোর অবরোধ জারি করে রেখেছে, যার ফলে সেখানকার ফিলিস্তিনিরা চরম খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, তাদের স্টকে থাকা খাদ্য দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে শেষ হয়ে যেতে পারে। অবরোধের কারণে খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে, এবং জনগণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি গাজার জনগণ ও হামাসের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি তার বার্তায় ইসরায়েলকে “কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু” দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যা ইঙ্গিত করে যে বন্দি মুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার হতে পারে।

প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাবনা
হামাসের পক্ষ থেকে এখনো ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে এই হুমকি গাজায় চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হামাসের সরাসরি আলোচনার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানিয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ও হামাসের সঙ্গে মার্কিন আলোচনা গাজার ভবিষ্যৎ এবং সেখানকার বন্দি সংকটের সমাধানে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে এটি স্পষ্ট যে, এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।