উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী কমছে, কেন বাড়ছে ড্রপআউটের হার? কী কারণ?

এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ৩ মার্চ। কিন্তু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে প্রতি বছরই। এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা পাঁচ লক্ষের কিছু বেশি, যেখানে গত বছর তা ছিল প্রায় আট লক্ষের কাছাকাছি।
কেন কমছে পরীক্ষার্থী?
শুধু এ বছরই নয়, গত কয়েক বছর ধরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও অনেক ছাত্রছাত্রী দ্বাদশ পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে না।
২০২৩ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ৫,৫৩,৭৯০ জন, কিন্তু ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে ৫,০৮,৪০২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪৫,০০০ পড়ুয়া মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি—প্রায় ১,২৩,৫৯৪ জন।
প্রকৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কম
যারা অ্যাডমিট কার্ড পায়, তারাও সবাই পরীক্ষায় বসে না। ফলে বাস্তব পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কম হয়। যেমন, নদিয়া জেলায় প্রথম দিনেই ৬২৬ জন ও কোচবিহারে ৭১৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
শিক্ষামুখী প্রকল্প থাকলেও কেন ড্রপআউট?
সরকার বিভিন্ন শিক্ষামুখী প্রকল্প চালু করলেও শিক্ষার্থীদের স্কুলছুটের হার কমছে না। যেমন—
কন্যাশ্রী প্রকল্প: ছাত্রীদের জন্য ২৫,০০০ টাকা অনুদান
সবুজ সাথী: ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে সাইকেল
ঐক্যশ্রী, শিক্ষাশ্রী প্রকল্প: আর্থিক সহায়তা
একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ১০,০০০ টাকা ট্যাব সহায়তা
এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা কেন পড়াশোনা ছাড়ছে?
সম্ভাব্য কারণ:
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা:
অনেকেই পরিবারের আর্থিক চাপে পড়াশোনা ছেড়ে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে যাচ্ছে।
কর্মসংস্থানের অভাব:
উচ্চশিক্ষার পরও নিশ্চিত চাকরির সুযোগ না থাকায় অনেকে দ্রুত রোজগারের পথ বেছে নিচ্ছে।
স্কুলের পরিকাঠামো দুর্বল:
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়নি। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের অভাবের কারণে অনেক স্কুলেই বিজ্ঞান শাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বিকল্প শিক্ষার প্রতি আগ্রহ:
অনেকেই একাদশ শ্রেণির পর ডিপ্লোমা, ভোকেশনাল ট্রেনিং বা অন্যান্য কোর্সের দিকে ঝুঁকছে।
শিক্ষাবিদদের মতামত
অনেক শিক্ষাবিদের মতে, শুধু আর্থিক সাহায্য দিয়ে ড্রপআউট সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নত করা, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি করা প্রয়োজন।
এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরও কমবে, যা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।