“আমার মাথায় বন্দুক ধরে, হাতে হাতকড়া পরানো হয়”- সুনীল শেট্টি

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সুনীল শেঠি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের একটি মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন।

কী ঘটেছিল সেই দিন?
২০০১ সালের নভেম্বর মাসে সুনীল শেঠি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তাঁর চলচ্চিত্র ‘কাঁটে’র শুটিং করতে। এর ঠিক দুই মাস আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হয়ে উঠেছিল।

সুনীল শেঠি সাক্ষাৎকারে জানান, ৯ নভেম্বর তিনি হোটেলের লবিতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই পুলিশ তাঁর দিকে বন্দুক তাক করে এবং তাঁকে মাথা নিচু করে বসতে বলে। পুলিশের হুমকির মুখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়েন। এরপর তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো হয় এবং তাঁকে আটক করা হয়।

সুনীল বলেন, “আমার মাথায় বন্দুক ধরে, আমার হাতে হাতকড়া পরানো হয়। আমি হোটেলের লবিতে যেতেই পুলিশ রে রে করে ওঠে। মাথা নীচু করে বসে পড়তে বলে। না হলে গুলি চালানোর হুমকি দিতে থাকে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ি।”

কেন আটক হয়েছিলেন সুনীল?
সুনীল শেঠির বর্ণনা অনুযায়ী, ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ছিল। বিশেষ করে বিদেশিদের ওপর নজরদারি বেড়ে গিয়েছিল। সুনীলের মতো একজন এশিয়ান ব্যক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল পুলিশ। তাঁর পাসপোর্ট এবং পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় সুনীল শেঠি মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। পুলিশের হুমকি এবং বন্দুকের মুখে আমি সম্পূর্ণ অসহায় বোধ করছিলাম।”

সুনীল শেঠির ক্যারিয়ার
সুনীল শেঠি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তাঁর কর্মজীবন তিন দশক পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একশোরও বেশি হিন্দি ও তামিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ‘মোহরা’, ‘দেশপ্রেমী’, ‘হেরা ফেরি’, ‘বর্ডার’ এবং ‘ধর্মবীর’।

সুনীল শেঠি শুধু একজন অভিনেতাই নন, তিনি একজন প্রযোজক এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্বও। তাঁর জনপ্রিয়তা এবং অভিনয় দক্ষতা তাঁকে বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতায় পরিণত করেছে।

সুনীল শেঠির এই অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিদেশিদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হলেও, অনেক সময়ই নির্দোষ মানুষকে এর শিকার হতে হয়েছে।

সুনীল শেঠির এই সাক্ষাৎকার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তাঁর সাহস এবং সততার জন্য ভক্তরা তাঁকে আরও বেশি সম্মান ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন। বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একদিকে যেমন মানবিকতার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছেন।