“ক্ষমা চাইব না'”-স্পষ্ট জানালেন জেলেনস্কি, পাশে পেলেন ৩১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই ঘটনায় ট্রাম্প জেলেনস্কির আচরণকে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অপমান’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা জেলেনস্কির প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উত্তপ্ত বৈঠকের বিস্তারিত
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধান এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে, বৈঠকটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং জেলেনস্কি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান।
ট্রাম্প জানান, জেলেনস্কি শান্তি আলোচনায় আগ্রহী নন এবং তাঁর সাহায্য চাওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, “জেলেনস্কি শান্তির জন্য প্রস্তুত নন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছেন।”
জেলেনস্কি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ট্রাম্পকে সম্মান করেন, তবে ক্ষমা চাইতে নারাজ। তিনি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সম্মান করি, কিন্তু ক্ষমা চাইছি না। আমেরিকার জনগণকেও আমি সম্মান করি। আমার মনে হয় না আমরা কিছু ভুল করেছি।”
ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন
জেলেনস্কির এই আচরণের পর ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (টুইটার)-এ ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়ে পোস্ট করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানরা। ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, ব্রিটেন, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশ ও সংস্থাগুলি জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, “যারা শুরু থেকেই লড়াই করে আসছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। কারণ তারা তাদের মর্যাদা, তাদের স্বাধীনতা, তাদের সন্তান এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করছে।” পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক লিখেছেন, “আপনি একা নন।”
জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আমরা আমাদের দেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।”
মার্কিন-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
এই উত্তপ্ত বৈঠকের পর মার্কিন-ইউক্রেন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলেনস্কি জানান, তিনি চান ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করুন এবং ইউক্রেনের পাশে থাকুন। তিনি বলেন, “আমি চাই তিনি (ট্রাম্প) মাঝখানে থাকুন। আমি এটাও চাই তিনি আমাদের পাশে থাকুক।”
জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “হ্যাঁ, একেবারেই।”
খনিজ সম্পদ চুক্তি নিয়ে আলোচনা
এই বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ। ইউক্রেন গ্রাফাইট, লিথিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইউক্রেনের পাশে থাকার বিনিময়ে তারা এই সম্পদের ৫০ শতাংশ মালিকানা চায়। তবে, জেলেনস্কি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান।
হোয়াইট হাউসের এই উত্তপ্ত বৈঠক মার্কিন-ইউক্রেন সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। তবে, ইউরোপীয় নেতাদের ব্যাপক সমর্থন জেলেনস্কির জন্য একটি বড় শক্তি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধান এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন এই আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে।