“ভ্যানে তুলতে পারছিলেন না ট্রলি, এত ভারী কেন?” প্রশ্ন ভ্যানচালকের, যা বলেছিলেন ফাল্গুনী

কুমারটুলি ঘাটে এক মহিলার ট্রলিবন্দি দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। পুলিশ নিহতের ভাইপোবউ ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মাকে গ্রেফতার করেছে। এরপরই সবার মনে প্রশ্ন ঘুরছে—মধ্যমগ্রাম থেকে কুমারটুলি ঘাট পর্যন্ত এই দুই মহিলা দেহ কীভাবে নিয়ে গেলেন? তদন্তে জানা গেছে, ভ্যান, ট্যাক্সি আর ট্রেনের সাহায্যে দেহটি ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভ্যানচালক ও ট্যাক্সিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় পুলিশ। থানা থেকে বেরিয়ে তাঁরা যা বললেন, তা শুনলে আপনিও অবাক হবেন।

মধ্যমগ্রামের বীরেশ পল্লি থেকে দেহটি প্রথমে ভ্যানে করে দোলতলা পর্যন্ত আনা হয়। ভ্যানচালক পুলিশকে জানান, “আমি রাস্তার ধারে ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন ফাল্গুনী ঘোষ আমার কাছে এসে বলেন, একটা স্যুটকেস দোলতলায় নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত ওই পথে ভ্যানভাড়া ২০ টাকা জনপ্রতি। কিন্তু বড় স্যুটকেস দেখে আমি ১৫০ টাকা চাই। দরদাম করে ১৩০ টাকায় রফা হয়।” তিনি আরও বলেন, “তারপর তাঁরা ঘরে গিয়ে স্যুটকেস বের করেন। টেনে-হিঁচড়ে কোনওমতে বার করলেন, কিন্তু ভ্যানে তুলতে পারছিলেন না। আমি তখন হাত লাগাই। তুলতে গিয়েই সন্দেহ হয়—এত ভারী কেন? জিজ্ঞেস করতেই তাঁরা বলেন, ‘কাঁসার বাসন আছে।’ দোলতলায় পৌঁছে আমি স্যুটকেস নামিয়ে দিয়ে চলে আসি।”

দোলতলা থেকে ট্রেনে পার্ক সার্কাস পৌঁছে সেখান থেকে ট্যাক্সিতে করে কুমারটুলি ঘাটে আসেন দুই মহিলা। ট্যাক্সিচালক জানান, “আমি পার্ক সার্কাসে যাত্রী খুঁজছিলাম। দুই মহিলা স্যুটকেস নিয়ে ট্যাক্সিতে ওঠেন। কুমারটুলি ঘাটে যেতে বলেন। স্যুটকেস দেখে আমার কোনও সন্দেহ হয়নি। অনেকেই তো বড় ব্যাগ নিয়ে ঘোরে। পৌঁছে দিয়ে আমি ভাড়া নিয়ে চলে আসি।”

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, মধ্যমগ্রামের বাড়ি থেকে দেহটি প্রথমে স্যুটকেসে ভরা হয়। তারপর ভ্যানে করে দোলতলা, সেখান থেকে ট্রেনে পার্ক সার্কাস এবং শেষে ট্যাক্সিতে করে কুমারটুলি ঘাটে পৌঁছানো হয়। ঘটনার পর ভ্যান ও ট্যাক্সিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁদের কিছুই জানা ছিল না।

এই ঘটনায় এখনও তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।