OMG! ৩ কিশোরীকে অপহরণ করে গণধর্ষণ ১৮ জন নাবালকের, নক্কারজনক ঘটনা ঝাড়খণ্ডে

ঝাড়খণ্ডের খুন্তি জেলার রানিয়া এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে পাঁচ নাবালিকা কিশোরীকে অপহরণ ও তাদের মধ্যে তিনজনের উপর গণধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ১৮ জন নাবালক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
খুন্তির পুলিশ সুপার (এসপি) আমান কুমার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে পাঁচ কিশোরী বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একদল ছেলে তাদের পিছু নেয় এবং একটি নির্জন স্থানে পৌঁছে তাদের বলপূর্বক টেনে নিয়ে যায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা কিশোরীদের পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। এই সময় দুই কিশোরী অভিযুক্তদের হাতে কামড় দিয়ে কোনওক্রমে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তারা গ্রামে পৌঁছে গ্রামবাসীদের ঘটনাটি জানায়।
কিন্তু বাকি তিন কিশোরী এত সৌভাগ্যবান ছিল না। অভিযোগ, ১৮ জন নাবালক অভিযুক্ত তাদের গণধর্ষণ করে এবং পরে জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যায়। অসুস্থ ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তিন কিশোরী রাতের অন্ধকারে হেঁটে গ্রামে পৌঁছায় এবং পরিবার ও গ্রামবাসীদের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
নির্যাতিতা ও অভিযুক্তদের পরিচয়
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা পাঁচ কিশোরীর মধ্যে তিনজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। অভিযুক্ত ১৮ জন নাবালকের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। ঘটনার পর নির্যাতিতাদের পরিবার তাদের স্থানীয় রানিয়া থানায় নিয়ে যায় এবং অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশের তৎপরতা
এসপি আমান কুমার জানান, নির্যাতিতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) প্রাসঙ্গিক ধারা এবং শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো অ্যাক্ট)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরীদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে ইতিমধ্যেই সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রামবাসীদের ক্ষোভ
এই নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর খুন্তি জেলার গ্রামগুলিতে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গ্রামবাসীরা মেয়েদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকি।
পূর্বের ঘটনার প্রসঙ্গ
প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরে খুন্তি জেলায় এক আদিবাসী নাবালিকাকে স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করে ছয় যুবক গণধর্ষণ করেছিল। সেই ঘটনার ক্ষত এখনও না কাটতে এই নতুন ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। বারবার এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা
এই ঘটনা শুধু খুন্তি নয়, গোটা ঝাড়খণ্ডে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে তদন্তে কোনও ত্রুটি রাখা হবে না এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এই ঘটনা সমাজে নারী নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধ নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। সকলের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে নির্যাতিতাদের ন্যায় দেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।