ঋণ নিয়ে দু’বছর অন্তর গাড়ি বদল, বিদেশ ভ্রমণ! বিলাসবহুল জীবনযাপনই কি ডেকে আনল সর্বনাশ?

ট্যাংরা কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে রহস্য। পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, এই রহস্যমৃত্যুর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা। দুই ভাই প্রণয় ও প্রসূন দে-র বিরুদ্ধে প্রায় ১৫-২০ কোটি টাকার কর বকেয়া ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন দুই ভাই। সেই ঋণ মেটাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিল দে পরিবার। ঘটনার দিন পাওনাদারদের টাকা নিতে আসতে বলেছিলেন তারা। তাহলে কি দেনার দায়েই আত্মহত্যা ও খুনের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন দুই ভাই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, দুর্গাপুজোর পর থেকেই ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল দে পরিবারের চামড়ার কারবারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়েছিল, যার ফলে আয় কমতে শুরু করে। কিন্তু ব্যবসায় ক্ষতির মধ্যেও বদলায়নি বিলাসবহুল জীবনযাপন।

প্রতিবেশীদের মতে, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও বাবা মারা যাওয়ার পর প্রণয় ও প্রসূনের খরচ লাগামছাড়া হয়ে যায়। দু’বছর অন্তর গাড়ি বদল, ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণ, দামি শখ—সব মিলিয়ে আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে খরচ সামলাতে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেন দুই ভাই, যা পরে আর শোধ করা সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত খরচ এবং কমতে থাকা ব্যবসার মুনাফা সামলাতে না পেরে একসময় দেনার দায়ে পুরো পরিবারই আর্থিক বিপর্যয়ে পড়ে। পুলিশের অনুমান, এই চরম পরিস্থিতির জেরেই হয়তো ঘটে গেছে মর্মান্তিক ঘটনা।

প্রণয় ও প্রসূনের আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাওনাদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি এত বড় ঋণের বোঝা থেকে থাকে, তাহলে তা ব্যাঙ্ক ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গেল কীভাবে? আর কী কারণে এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল দে পরিবার?

সব মিলিয়ে, ট্যাংরা কাণ্ডের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে সবাই।