“বিরাট-রোহিতদের ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে”,- গম্ভীরকে কুম্বলের বিশেষ পরামর্শ

দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশকে ছয় উইকেটে পরাজিত করে দুর্দান্ত সূচনা করল রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারত। শুভমন গিলের অপরাজিত সেঞ্চুরি এবং মহম্মদ শামির বিধ্বংসী বোলিং পারফরম্যান্স এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনার মুখে থাকা টিম ইন্ডিয়ার জন্য এই জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দিল।

শুভমন গিলের অনবদ্য ব্যাটিং পারফরম্যান্স ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে স্থিরতা দেয়। অপরাজিত সেঞ্চুরি করে তিনি ভারতের রান তাড়া সহজ করে দেন। অন্যদিকে, মহম্মদ শামি তার অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যা বাংলাদেশের ব্যাটিংকে ধসিয়ে দেয়।

তবে ম্যাচটি আবারও ইঙ্গিত দিল যে ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির ফর্ম নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই ম্যাচেও তারা ছন্দ খুঁজে পাননি। রোহিত শর্মা ৩৬ বলে ৪১ রান করেন, যেখানে সাতটি চারের মার ছিল। কিন্তু বিরাট কোহলি ৩৮ বলে মাত্র ২২ রান করে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। তার ইনিংস দেখে বোঝা যায় যে তিনি এখনও সেরা ফর্ম থেকে অনেক দূরে।

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ অনিল কুম্বলে মনে করেন, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে এই টুর্নামেন্টের পর ‘লিগ্যাসি প্লেয়ারদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে কুম্বলে বলেছেন, এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স সিনিয়র খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, ‘গম্ভীরের কাজ এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য অভিজ্ঞদের কতটা জায়গা দেওয়া উচিত এবং তরুণদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিশেষ করে রোহিত, কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা ও মহম্মদ শামির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

কুম্বলে আরও বলেন, ‘কোনো বিশ্বকাপের জন্য দলকে গড়তে হলে অন্তত ২০-২৫টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলতে হবে, যাতে খেলোয়াড়রা ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। গম্ভীরের উচিত এই টুর্নামেন্টের পর থেকেই ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করা।

তিনি আরও বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদব ভালো অধিনায়কত্ব করেছেন। ওয়ানডেতেও পরিকল্পনামাফিক দল তৈরি করতে হবে, যাতে দল সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সিনিয়ররা কি সেখানে জায়গা পাবেন, নাকি নতুন প্রতিভাদের সুযোগ দেওয়া হবে—গম্ভীরকেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ভারত যখন ৬৯/১ স্কোরে ছিল, তখন রোহিতের বিদায়ের পর বিরাট কোহলি ব্যাট করতে নামেন। কিন্তু শুরু থেকেই তিনি ধীরগতির ছিলেন। প্রথম ৯টি বল ডট খেলার পর তার ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার ইনিংসে একমাত্র চারটি আসে একটি অনিয়ন্ত্রিত পুল শট থেকে। শেষ পর্যন্ত রিশাদ হোসেনের বলে কাট করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

ভারতের জয় সত্ত্বেও, এই ম্যাচটি দেখিয়ে দিল যে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ফর্ম এখনও বড় উদ্বেগের বিষয়। গম্ভীরের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, বিশেষ করে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মাথায় রেখে।