ট্যাংরার পর ফের উদ্ধার একই পরিবারের ৩ সদস্যের মৃত দেহ, মা ও দুই নাবালক, তদন্তে পুলিশ

ট্যাংরায় একই পরিবারের তিন সদস্যের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় যখন গোটা রাজ্যে তোলপাড় চলছে, তারই মধ্যে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানা এলাকায় আরেকটি একই ধরনের ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে ম্যানেজার পাড়া থেকে এক মা ও তাঁর দুই নাবালক সন্তানের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছতেই বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ব্যাপক প্রতিবাদে নামেন। পরে পুলিশ সুপার অমনদীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

জানা গেছে, মহম্মদবাজার থানার ম্যানেজার পাড়ায় লক্ষ্মী মাড্ডি (২৫) নামে এক মহিলা তাঁর দুই নাবালক সন্তান—মেয়ে রূপালি ও ছেলে অভিজিৎ (৮)—নিয়ে বসবাস করতেন। লক্ষ্মীদেবীর স্বামী দুর্গাপুরে শ্রমিকের কাজ করেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা ঘরের ভেতর তিন জনের দেহ দেখতে পান। লক্ষ্মী ও রূপালির দেহ খাটের ওপর কম্বল জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল, আর অভিজিতের দেহ পাওয়া যায় খাটের নীচে। তিন জনের মাথাতেই আঘাতের গভীর চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।

খবর পেয়ে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও, খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুপার অমনদীপ নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তিনি স্থানীয়দের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দোষীদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। এরপর বিক্ষোভ প্রশমিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলা ঘুমন্ত অবস্থায় লক্ষ্মীদেবী ও তাঁর দুই সন্তানকে কেউ বা কারা খুন করে পালিয়েছে। তারা পুলিশের কাছে অবিলম্বে খুনিদের ধরার দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে নেমে পুলিশ নিহত লক্ষ্মীদেবীর স্বামীকে খুঁজছে। তাঁর কাছ থেকে এই হত্যার কারণ সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ তদন্তে নেমেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তৎপর। ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে গোটা এলাকার।