পঞ্চায়েতে সালিশি সভায় প্রচন্ড অত্যাচার, মহিলা ও তাঁর সন্তানদের করা হলো মারধর

বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকায় এক বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য ডাকা সালিশি সভায় এক গৃহবধূ ও তাঁর নাবালক দুই সন্তানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন অঞ্চল সভাপতি বকুল শেখ ওরফে মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে যে, পঞ্চায়েত অফিসের ভিতরেই পঞ্চায়েত প্রধানের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত পরিবার ইতিমধ্যেই কেতুগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে।

ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে, কাটোয়া মহকুমার কেতুগ্রাম এক নম্বর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের মোরগ্রামের বাসিন্দা আজমিরা খাতুন ও তাঁর স্বামী মহরলাল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে আব্বাস শেখ নামে এক ব্যক্তিকে একটি দোকানঘর ভাড়া দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আব্বাস শেখ দীর্ঘদিন ধরে দোকানঘরের ভাড়া বকেয়া রেখেছেন। ভাড়ার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আব্বাস শেখের সঙ্গে আজমিরা খাতুন ও তাঁর স্বামীর বিবাদ বাধে। এই বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য সোমবার পঞ্চায়েত প্রধানের ডাকে সালিশি সভা ডাকা হয়। ওই সভায় আজমিরা খাতুন, তাঁর স্বামী এবং তাদের দুই নাবালক সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

সালিশি সভার সময় আজমিরা খাতুন ও তাঁর দুই সন্তানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অঞ্চল সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন এই ঘটনার জন্য দায়ী। আজমিরা খাতুন ও তাঁর পরিবারের দাবি, পঞ্চায়েত অফিসের ভিতরেই এই মারধর করা হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার সময় রাস্তায় মারধরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন উঠেছে। পঞ্চায়েত অফিসে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং সভা ডাকা নিয়ে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সালিশি সভা হয়নি এবং মারধরের অভিযোগ অসত্য। তবে এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের কোনো সদস্য বা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।

ঘটনার তদন্তে নেমেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের তদন্তের ফলাফলের ওপর এখন সকলের নজর রয়েছে।

এই ঘটনা গ্রামীণ সালিশি ব্যবস্থা এবং পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।